বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার ক্ষেত্র আরও বৃদ্ধি করতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী
দেশের শিক্ষার সামগ্রিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারিত করার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শনিবার সাভারে ব্র্যাক সিডিএম সেন্টারে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত ‘ভাইস চ্যান্সেলরস ডায়ালগ: শেপিং দ্য ফিউচার অফ হায়ার এডুকেশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘শিক্ষার প্রকৃত উন্নয়নে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার গবেষণার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। ইতোমধ্যে শিক্ষা বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ শতাংশ বরাদ্দ করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে তা ৫ শতাংশে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দীর্ঘদিনের গবেষণা বাজেট সংকট দূর হবে।’
শিক্ষামন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, আমরা যদি গবেষণা-নির্ভর বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে না পারি, তবে শিক্ষার প্রকৃত অগ্রগতি সম্ভব নয়। তাই উচ্চশিক্ষার মান রক্ষায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও যেন আরও বেশি গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হয়, সেদিকে মঞ্জুরি কমিশনকে নজর রাখতে হবে। পাশাপাশি যেসকল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান সন্তোষজনক নয়, সেগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।
মেধা পাচার রোধে ‘রিভার্স ব্রেইন ড্রেইন’-এর গুরুত্ব তুলে ধরে ড. মিলন বলেন, এ দেশের অনেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিদেশে গিয়ে গবেষণা ও শিক্ষাক্ষেত্রে অসাধারণ মেধার স্বাক্ষর রাখছেন। সেই ধারণকৃত মেধা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার কার্যকর পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
তিনি দেশে একটি বিশেষায়িত স্নাতকোত্তর (পোস্ট গ্র্যাজুয়েট) বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা এবং জাতীয় স্বার্থে সরকারের বিভিন্ন অপচয়ের ক্ষেত্রগুলো বন্ধ করার ওপর জোর দেন।
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক জেড এন তাহমিদা বেগম।
‘উচ্চশিক্ষা রূপান্তরে দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এই সংলাপে দেশের সরকারি ও বেসরকারি প্রায় ৬০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যগণ অংশগ্রহণ করেন।



























