যবিপ্রবিতে ১৪ দেশের গবেষকদের অংশগ্রহণে ‘রাইকন ২০২৬’ শুরু
রোবোটিক্স, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ইন্টারনেট অব থিংস নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষকদের অংশগ্রহণে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘রাইকন ২০২৬’।
‘রোবোটিক্স, অটোমেশন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইন্টারনেট অব থিংস’ বিষয়ক পঞ্চম আইইইই আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর সরাসরি ও অনলাইন উভয় মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আইইইই বাংলাদেশ শাখা ও আইইইই রোবোটিক্স অ্যান্ড অটোমেশন সোসাইটি বাংলাদেশ শাখার যৌথ আয়োজনে এবং যবিপ্রবির ব্যবস্থাপনায় শুক্রবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু অ্যাকাডেমিক ভবনে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান।
এবারের সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের ১৪টি দেশের গবেষক ও প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনে জমা পড়া মোট ৫১৭টি গবেষণাপত্রের মধ্যে কঠোর বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১৪৫টি গবেষণাপত্র উপস্থাপনের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। গবেষণাপত্র গ্রহণের হার প্রায় ২৮ শতাংশ, যা সম্মেলনের কঠোর পর্যালোচনা ও বাছাই প্রক্রিয়ার প্রতিফলন।
সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, রোবোটিক্স, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ইন্টারনেট অব থিংস এখন আর আলাদা কোনো বিষয় নয়; বরং এসব প্রযুক্তির সমন্বিত প্রয়োগ শিল্পকারখানা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, শিক্ষা ও দৈনন্দিন জীবনকে পরিবর্তন করছে। প্রযুক্তিগত যেকোনো উন্নয়ন অবশ্যই মানবজাতির কল্যাণে আসতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গবেষক ও শিক্ষাবিদদের দায়িত্ব শুধু প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা নয়, বরং তা যেন নৈতিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সমাজের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তা নিশ্চিত করা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান বলেন, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মূল দায়িত্ব হলো জ্ঞান ও গবেষণাকে এমন অর্থবহ উদ্ভাবনে রূপান্তর করা, যা সরাসরি মানুষের কল্যাণে কাজে আসবে। সম্মেলনের মূল প্রবন্ধে মূল বক্তা প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহার, তথ্যের নিরাপত্তা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সাশ্রয়ী ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনে মূল বক্তা হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক অ্যাপ্লাইড ম্যাটেরিয়ালস ইনকর্পোরেটেডের জ্যেষ্ঠ পণ্য ব্যবস্থাপক রাম চন্দ্র পালসানিয়া। তিনি সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনশিল্পে পূর্বাভাসভিত্তিক রক্ষণাবেক্ষণ এবং যন্ত্রপাতির অচলাবস্থা কমাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে স্লাইড উপস্থাপনার মাধ্যমে আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে আয়োজক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. ইঞ্জি. ইমরান খান, আয়োজক কমিটির সহসভাপতি অধ্যাপক ড. বিপ্লব কুমার বিশ্বাস, সম্মেলনের সাধারণ সভাপতি অধ্যাপক ড. সেলিয়া শাহনাজ, আইইইই বাংলাদেশ শাখার সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমামুল হাসান ভূঁইয়া এবং কারিগরি কর্মসূচির সহসভাপতি অধ্যাপক ড. শেখ মো. রবিউল ইসলাম বক্তব্য দেন।
বিএমই বিভাগের প্রভাষক আনিকা আঞ্জুম ও ইইই বিভাগের প্রভাষক জাহেদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের গবেষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকদের আশা, এ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশীয় গবেষকদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন বাস্তবসম্মত সমাধান বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে।



























