মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:৩৪, ২০ অক্টোবর ২০২৬

দুইপক্ষ এক হওয়ার পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

দুইপক্ষ এক হওয়ার পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির পেছনে ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী শক্তির অর্থায়ন রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ দিয়ে দেশের ভেতরে একটি পক্ষকে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিতে সহায়তা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকালে রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের কাছে গোয়েন্দাদের খবর আছে। আপনারা নিশ্চয় দেখেছেন, দেশের কয়েকটি জায়গায় কয়েকটি কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমি পরিষ্কার করে হাজারো মানুষের সামনে একটি কথা বলতে চাই। পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে, যে স্বৈরাচার পালিয়ে গেছে তারা সেখানে অর্থ সরবরাহ করছে। অর্থ সরবরাহ করে কাদের সাহায্য করছে? এই যে কিছু লোক আছে, যারা ভ্রান্তি ছড়ায় দেশে, যারা বিভিন্ন টিকিট বিক্রির চেষ্টা করেছিল নির্বাচনের আগে মিথ্যা কথা বলে। এই দুইপক্ষ এক হয়েছে। একজন পয়সা দিচ্ছে সীমান্তের ওপার থেকে। আরেকজন এখানে বসে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করছে। এদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার আগে শত শত মানুষকে হত্যা করেছিল। সেই শহীদদের স্মরণে সোমবার ঢাকায় একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। বিএনপি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও চব্বিশের জুলাই আন্দোলন—উভয়কেই ধারণ করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কারণেই জুলাইযোদ্ধাদের পাশে দাঁড়িয়েছে বিএনপি। শহীদ পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে এবং আহত জুলাইযোদ্ধাদের চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে সব রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, যারা প্রকাশ্যে চব্বিশের আন্দোলনের চেতনা ধারণ করার কথা বলে, তাদের আমন্ত্রণ জানানো হলেও জুলাইয়ের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সেসব দলের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। তাঁর অভিযোগ, একাত্তরের মতো চব্বিশের জুলাই আন্দোলনেও এসব দল জনগণকে বিভ্রান্ত করেছে। তাদের বক্তব্যের সঙ্গে কাজের মিল নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নির্বাচনের আগে বিভিন্ন ধরনের টিকিট বিক্রির প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ তাদের এসব টিকিট গ্রহণ করেনি। তখন ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে নানা ধরনের কথা বলা হয়েছিল। ফ্যামিলি কার্ড বন্ধ হলে মা-বোনেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন—এমন বক্তব্যও দেওয়া হয়েছিল। তবে এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো উদ্বেগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, এখন জনগণকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি এবং কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে কি না। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে চাইলে আগামী পাঁচ বছর বিএনপিকে সমর্থন দিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, ১২ তারিখে যেভাবে বিএনপির পাশে ছিলেন, একইভাবে আগামী পাঁচ বছরও সমর্থন অব্যাহত রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, একাত্তর থেকে শুরু করে গতকাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে কিছু রাজনৈতিক দল জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে এবং দেশকে ভিন্ন পথে পরিচালিত করতে চেয়েছে। এসব দলের বিষয়ে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে জনসভায় আখচাষিদের জন্য সরকারি প্রণোদনার অর্থ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। কম্পিউটারে একটি বোতাম চেপে সংশ্লিষ্ট চাষিদের মোবাইল হিসাব নম্বরে অর্থ পাঠানোর কার্যক্রম শুরু করেন তিনি।

এ সময় তারেক রহমান বলেন, ‘এখন আমি কম্পিউটারে একটা বোতামে চাপ দেবো। চাপটা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কয়েক মিনিটের মধ্যে আখচাষি ভাইদের অ্যাকাউন্টে সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া সহযোগিতা ইনশাআল্লাহ পৌঁছে যাবে।’

তিনি জানান, আখচাষিদের সহায়তায় সরকার মোট ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এ অর্থ ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। কৃষকদের এই সহায়তা আখ চাষে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে কম্পিউটারের বোতাম চাপেন। এ সময় জনসভায় উপস্থিত হাজারো মানুষ সমস্বরে ‘বিসমিল্লাহ’ বলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। পরে দেশের ১৫টি চিনিকল এলাকার ১৫ জন কৃষকের হাতে প্রতীকী চেক তুলে দেন তিনি।

প্রণোদনার প্রতীকী চেক পাওয়া কৃষকেরা হলেন—আবু সাঈদ চান, আবদুল আউয়াল মালেক, আবদুল মান্নান মন্ডল, এমাজ উদ্দিন, মো. কাহার, গোলাম রাব্বানী, সবিতা রানী, জালাল উদ্দিন মৃধা, জিয়াউল হক, মহিদুল ইসলাম, আবদুল মাজেদ, নিরান্দ কুমার ঘোষ, শামীমুর রহমান, রীমা খাতুন ও রফিকুল ইসলাম।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল, শফিকুল হক মিলন, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী এবং দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন প্রমুখ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিএনপির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য আবুল কালাম, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা এবং কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন প্রমুখ।

জনপ্রিয়