মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২:১০, ২০ অক্টোবর ২০২৬

এসপি কার্যালয়ের পাশে অভিজাত ভবনে ইয়াবার ডেরা

এসপি কার্যালয়ের পাশে অভিজাত ভবনে ইয়াবার ডেরা
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজার শহরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক স্থাপনাগুলোর অন্যতম পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয়। এর ঠিক পাশেই অভিজাত বহুতল ভবনের একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে ইয়াবা মজুত ও পাচারের ঘাঁটি গড়ে তুলেছিলেন একটি চক্রের সদস্যরা। সেখান থেকে নিজেদের গাড়িতে করে প্রতি সপ্তাহে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ইয়াবার চালান পাঠানো হতো বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তিন লাখ ইয়াবাসদৃশ ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। এ সময় মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়। ফ্ল্যাটটি থেকে জব্দ করা হয় তিনটি মুঠোফোনও।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দিবাগত রাত আড়াইটা থেকে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোর ৪টা পর্যন্ত শহরের বাহারছড়া নিউ সার্কিট হাউস রোডের কোরাল রিপ পূর্বিতা সুলতান ভিলার নবম তলার ৮/এ নম্বর ফ্ল্যাটে এ অভিযান চালানো হয়। ভবনটি পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও কক্সবাজার প্রেসক্লাবের ঠিক সামনেই অবস্থিত।

আটক ব্যক্তিরা হলেন শরীয়তপুরের আরমান বয়াতী (২৭), পিরোজপুরের মো. শামীম (৩০) ও ভোলার মো. রাকিব (২৫)।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মুহাম্মদ আলী জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের তিনটি বিশেষ দল ফ্ল্যাটটিতে অভিযান চালায়। তল্লাশির একপর্যায়ে শয়নকক্ষের কেবিনেটের ভেতরে রাখা দুটি কালো ট্রাভেল ব্যাগ থেকে ৩০টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। প্যাকেটগুলোতে তিন লাখ পিস ইয়াবাসদৃশ ট্যাবলেট পাওয়া যায়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, টেকনাফ সীমান্ত এলাকা থেকে সংগ্রহ করা ইয়াবাগুলো ঢাকার কেরানীগঞ্জে রাহাদ হোসেন (২৬) নামে এক ব্যক্তির কাছে পাঠানোর জন্য ফ্ল্যাটটিতে মজুত রাখা হয়েছিল। রাহাদের নামেই ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেওয়া হয়। তবে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আটক আরমান সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া বক্তব্যে দাবি করেন, এর আগে দুই লাখ পিস করে ১০টি চালানে মোট ২০ লাখ পিস ইয়াবা রাহাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, ফ্ল্যাটটিতে কারা যাতায়াত করতেন, তা শনাক্ত করতে ভবনটির গত এক মাসের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছে পুলিশ। ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত করার পাশাপাশি ইয়াবা মজুত ও পাচারের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশের দাবি, আটক তিনজন ও পলাতক রাহাদ পরস্পরের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে ফ্ল্যাটটি ইয়াবা মজুত ও কেনাবেচার কাজে ব্যবহার করে আসছিলেন। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মমতাজ উদ্দিন বাহারী বলেন, শহরের অভিজাত ভবনগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে বড় মাদক কারবারিদের বসবাসের অভিযোগ রয়েছে। বেশি ভাড়া এবং ভাড়াটিয়াদের বিষয়ে পর্যাপ্ত খোঁজখবর না রাখার সুযোগে এসব ভবন মাদক মজুত ও পাচারের কাজে ব্যবহৃত হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, মাদক কারবারের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যদের পাশাপাশি সাংবাদিকদের কারও কারও জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে পেশা বা পরিচয় বিবেচনা না করে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা উচিত।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান বলেন, মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে।

জনপ্রিয়