গুলশানের কিংফিশার রেস্টুরেন্টে অভিযানে, বিপুল পরিমাণ অ্যালকোহল জব
রাজধানীর গুলশানে কিংফিশার রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়ে বৈধ কাগজপত্র না থাকা বিপুল পরিমাণ অ্যালকোহল ও অ্যালকোহলজাতীয় পানীয় জব্দ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চারটি গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বিত দল। অবৈধ উৎস থেকে এসব পণ্য সংগ্রহ ও বিক্রির মাধ্যমে শুল্ক-কর ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে—এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৫ অক্টোবর দিবাগত রাতে এ অভিযান চালানো হয়।
এনবিআরের নির্দেশনায় এবং কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) সার্বিক তত্ত্বাবধানে রাত সাড়ে ১২টায় গুলশানের প্লট-৩৩, রোড-৪৫-এ অবস্থিত কিংফিশার রেস্টুরেন্ট লিমিটেডে অভিযান শুরু হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে এ কার্যক্রম।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল অবৈধ উৎস ও চোরাচালানের মাধ্যমে সংগৃহীত অ্যালকোহল ও অ্যালকোহলজাতীয় পানীয়ের মজুত শনাক্ত করা। পাশাপাশি এসব পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ফাঁকি দেওয়া হয়েছে কি না, বিক্রির অর্থ আয়কর নথিতে যথাযথভাবে দেখানো হয়েছে কি না এবং লেনদেনে অর্থপাচারের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অভিযানে অংশ নেয় এনবিআরের চারটি গোয়েন্দা সংস্থা—সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি), আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট (টিআইআইইউ) এবং মূল্য সংযোজন কর নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (ভিএআইআইডি)। অভিযানের পুরো সময় বিশেষ রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১) সহযোগিতা দেয়।
কাস্টমস আইন, ২০২৩, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এবং আয়কর আইন, ২০২৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়।
এনবিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযানে জব্দ করা পণ্যের বিস্তারিত বিবরণ, প্রাথমিক অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য, সম্ভাব্য শুল্ক-কর ফাঁকির পরিমাণ এবং পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম সম্পর্কে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে জানানো হবে। তবে এখন পর্যন্ত জব্দ করা অ্যালকোহলের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ ও সম্ভাব্য শুল্ক-কর ফাঁকির আর্থিক হিসাব প্রকাশ করা হয়নি।



























