তিন অভিযোগে নির্বাচন কমিশন ঘেরাও ছাত্রদলের
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিরুদ্ধে পোস্টাল ব্যালটসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে ইসি ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।
রোববার ইসি ভবনের সামনে সমবেত হয়ে সংগঠনটির সভাপতি রকিবুল ইসলাম বলেন, দাবি আদায় না হলে এবং নির্বাচন কমিশন তাদের বক্তব্যে গুরুত্ব না দিলে তারা সারারাত ভবনটি অবরুদ্ধ করে রাখবেন।
তিনি জানান, আসন্ন ঐতিহাসিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে ছাত্রদল প্রচার কার্যক্রমে অংশ নেবে। একই সঙ্গে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জাতীয়তাবাদী দলই এবারের নির্বাচনে জয়ী হবে।
রকিবুল ইসলাম অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের দীর্ঘদিন ধরে সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনে অবাধ যাতায়াত রয়েছে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতার জন্য হুমকিস্বরূপ। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন—কেউ যদি নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করে, তবে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে ছাত্রদল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনের সড়কে ছাত্রদলের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী জমায়েত হতে থাকেন। এ সময় সংগঠনটি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তিনটি প্রধান অভিযোগ তুলে ধরে।
ছাত্রদলের অভিযোগগুলো হলো
১. পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতমূলক ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে।
২. একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের কারণে ইসি দায়িত্বশীল ও যুক্তিসংগত সিদ্ধান্তের পরিবর্তে হঠকারী ও দূরদর্শিতাহীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে, যা কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
৩. বিশেষ রাজনৈতিক দলের সরাসরি প্রভাব ও হস্তক্ষেপে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশন নজিরবিহীন ও বিতর্কিত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য উদ্বেগজনক বলে দাবি করা হয়।



























