চিকিৎসা গাফিলতিতে শিশুর মৃত্যু: সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের নার্স পলাতক!
রাজধানীর সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলা: ৭ বছরের হাবিবার মর্মান্তিক মৃত্যু।
মঙ্গলবার বিদ্যুৎস্পৃষ্টে আঙুল বাঁকা হওয়ায় চিকিৎসা নিতে এসে হাসপাতাল থেকে ফিরতে হয়েছে লাশ হয়ে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্বজনদের দাবি, চিকিৎসা প্রটোকল লঙ্ঘন করে ওটি’র ইঞ্জেকশন সাধারণ ওয়ার্ডে দেওয়া হলে সঙ্গে সঙ্গেই হাবিবা মৃত্যুবরণ করে।
আকস্মিকভাবে সন্তান হারিয়ে কামরুজ্জামান ও স্বজনদের বুকফাটা কান্নায় হাসপাতাল প্রাঙ্গণজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়।
নিহত শিশুর বাবা কামরুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, অপারেশনের আগে নিয়ম অনুযায়ী অ্যানেসথেশিয়া দেওয়ার কথা থাকলেও ওয়ার্ডেই একজন নার্স ইঞ্জেকশন দেন। “ইঞ্জেকশন দেওয়ার পরপরই আমার মেয়েটা আমার চোখের সামনেই শেষ হয়ে গেল,” বলেন তিনি।
তিনি জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে আঙুল সামান্য বাঁকা হওয়ায় ১৭ জানুয়ারি মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং মঙ্গলবার সকালে অস্ত্রোপচারের সময় নির্ধারিত ছিল।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অধ্যাপক ডা. নুরুল্লাহর অধীনে হাবিবার চিকিৎসা চলছিল। অস্ত্রোপচারের পূর্বে প্রটোকল লঙ্ঘন করে সিনিয়র স্টাফ নার্স ইয়াসিন ওয়ার্ডেই ইঞ্জেকশন দেন। ইঞ্জেকশনটির ধরন সম্পর্কে এখনো কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ শিহাব বলেন,“এটি স্পষ্টতই একটি অপরাধ। নার্সের ভুল ইঞ্জেকশনের কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।”
তিনি জানান, ওটি’র ইঞ্জেকশন কেন ওয়ার্ডে দেওয়া হলো, তা জানতে ইতোমধ্যে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্ত নার্সকে শনাক্ত করা গেলে কোন বিষাক্ত উপাদান পুশ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার আইনি পদক্ষেপ নিলে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান তিনি। বিকেলে শিশুটির মরদেহ স্বজনরা বাড়ি নিয়ে গেছেন।
শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, শিশুর বাবার পক্ষ থেকে থানায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তিনি ঘটনাটিকে মর্মান্তিক আখ্যা দেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নার্সকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।



























