শনিবার ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০০:২৬, ২৯ আগস্ট ২০২৬

গণপতি চক্রবর্তী হত্যার বিচার দাবির মানববন্ধনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, বাগবিতণ্ডা

গণপতি চক্রবর্তী হত্যার বিচার দাবির মানববন্ধনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, বাগবিতণ্ডা
ছবি: সংগৃহীত

রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবিতে ঢাকার ধানমন্ডিতে আয়োজিত মানববন্ধনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া নিয়ে বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি ব্যানার জব্দ করেছে পুলিশ। পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডি-২৭ নম্বর সড়কে মিনা বাজারের সামনে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’, ‘সচেতন প্রকৌশলী সমাজ’ ও ‘সচেতন শিক্ষক সমাজ’-এর ব্যানারে এ প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে শতাধিক মানুষ অংশ নেন। আয়োজকদের মধ্যে ছিলেন অ্যাক্টিভিস্ট ও চারুশিল্পী কামাল পাশা চৌধুরী। তিনি বক্তব্যে গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানান।

কামাল পাশা চৌধুরী বলেন, “গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। ছবিতে দৃশ্যমান নিষ্পাপ মুখগুলো বারবার আমার চোখের সামনে ভেসে উঠছে। আমার হৃদয় ব্যথিত, আমি চোখের জল ধরে রাখতে পারছি না। আমরা কেমন সমাজে বাস করছি? এ দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা কী শিখছি? আমরা কি একটি বর্বর জাতিতে পরিণত হচ্ছি?”

তিনি আরও বলেন, “ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা একটি দেশ পেয়েছি এবং স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আমাদের চোখের সামনে এই স্বাধীনতাকে ধ্বংস হতে দিতে পারি না। সে কারণেই আমরা রাস্তায় নেমেছি। বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়েছে। এই প্রতিবাদ সমাবেশ যেন করতে না পারি, সেজন্য আমাদের কাছে বিভিন্নভাবে ফোনকল এসেছে।”

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে কামাল পাশা চৌধুরী ‘জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেন। এরপর তিনজন ব্যক্তি সেখানে এসে ওই স্লোগানের প্রতিবাদ জানান। এ নিয়ে আয়োজক ও প্রতিবাদকারীদের মধ্যে কিছুক্ষণ বাগবিতণ্ডা হয়।

প্রতিবাদকারীদের একজন নিজের পরিচয় না দিয়ে বলেন, “আওয়ামী লীগ একটি নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল। আপনারা এটিকে একটি সামাজিক প্রতিবাদ কর্মসূচি বলছেন, তাহলে আপনারা কেন ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিচ্ছেন?”

এ সময় পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ওই ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

সমাবেশে অংশ নেওয়া ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মুজতবা ধ্রুব বলেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী শতাধিক মানুষ সেখানে সমবেত হয়েছিলেন। কামাল পাশাসহ দুই-তিনজন বক্তব্য দেন। বক্তব্য শেষে কামাল পাশা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিলে দুই-তিনজন যুবক এর প্রতিবাদ জানান। তারা সামাজিক কর্মসূচিতে কেন এ ধরনের স্লোগান দেওয়া হচ্ছে—এমন প্রশ্ন তোলেন।

তিনি বলেন, “এটা নিয়ে কিছুক্ষণ বাগবিতণ্ডা হয়। পরিবেশটা একটু উত্তপ্ত হয়ে পড়ায় আগতরা দ্রুত সেখান থেকে চলে যান।”

ঘটনার বিষয়ে কামাল পাশা চৌধুরী বলেন, কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর সবাই যখন সেখানে অবস্থান করছিলেন, তখন কয়েকজন এসে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। এতে কিছুটা বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর পুলিশ সেখানে আসে এবং বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর নেয়। তবে কাউকে আটক করা হয়েছে বলে তিনি শুনেননি।

তবে পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম বলেন, রংপুরের চার হত্যাকাণ্ডে নিহতদের ছবি নিয়ে ‘সচেতন প্রকৌশলী সমাজ’-এর ব্যানারে কয়েকজন সেখানে দাঁড়িয়েছিলেন। হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বক্তব্য দেওয়ার সময় পেছন থেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হয়।

ওসি বলেন, “আমরা পাশেই ছিলাম। তখন আমরা গিয়ে ব্যানার ধরছি আর লোকগুলো পালিয়ে গেছে। আমরা সেখানে আগতদের শনাক্ত করেছি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।”

তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি ব্যানার জব্দ করা হয়েছে।

সম্পর্কিত বিষয়:

জনপ্রিয়