শনিবার ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩

বাগেরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১:২৬, ২৮ আগস্ট ২০২৬

সুন্দরবনে বন অপরাধবিরোধী অভিযানে আটক ৪৬, মামলা ৮৯

সুন্দরবনে বন অপরাধবিরোধী অভিযানে আটক ৪৬, মামলা ৮৯
ছবিঃ প্রতিনিধি

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পশ্চিম বন বিভাগের খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে গত জুন ও জুলাই মাসে পরিচালিত ১০৮টি বন অপরাধবিরোধী অভিযানে ৪৬ জনকে আটক করেছে বন বিভাগ। এ সময় বন্যপ্রাণী শিকার ও বনসম্পদ আহরণের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ৮৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দায়ের করা মামলাগুলোর মধ্যে ১৯টি পিওআর, ৬৯টি ইউডিওআর এবং একটি সিওআর মামলা রয়েছে। অভিযানে জব্দ করা হয়েছে ৩০ কেজি হরিণের মাংস, দেড় হাজার মিটার হরিণ ধরার মালা ফাঁদ, ৮৯টি নৌকা, তিনটি ট্রলার এবং বিপুল পরিমাণ মাছ ধরার সরঞ্জাম।

জব্দকৃত অন্যান্য আলামতের মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ২০০ কেজি কাঁকড়া, ৬১০ কেজি চিংড়ি, ১৮৫ কেজি সাদা মাছ, ৪৭ বোতল বিষ এবং ৫৩টি মাছ ধরার জাল। বন বিভাগের মতে, এসব আলামত সুন্দরবনের অভ্যন্তরে অবৈধ শিকার ও বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরার প্রবণতার প্রমাণ বহন করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরিণ শিকারে ব্যবহৃত দেড় হাজার মিটার মালা ফাঁদ উদ্ধার হওয়া বন্যপ্রাণী নিধনের সংগঠিত তৎপরতার ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরার ঘটনা সুন্দরবনের জলজ প্রাণী ও বাস্তুতন্ত্রের জন্য বড় হুমকি।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ে ১১০টি অভিযানে ৪৭ জনকে আটক এবং ৮২টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। চলতি বছরে অভিযানের সংখ্যা সামান্য কম হলেও মামলার সংখ্যা বেড়েছে।

পশ্চিম সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এজেডএম হাছানুর রহমান বলেন, নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযানের কারণে বন অপরাধের হার ধীরে ধীরে কমছে। অবৈধ প্রবেশ, বন্যপ্রাণী শিকার এবং বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরার বিরুদ্ধে বনরক্ষীরা কঠোর অবস্থানে রয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সুন্দরবনের বিশাল আয়তন ও জনবল সংকটের কারণে বন অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা এখনও চ্যালেঞ্জ। তাই আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জনগণের সচেতন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।
 

জনপ্রিয়