সংস্কারের দুই মাস না যেতেই বেহাল ৮ কোটির সড়ক
সড়কটির সংস্কারকাজ শেষ হয়েছে মাত্র দুই মাস আগে। এখনো সড়ক ও জনপথ বিভাগে কাজ বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। এরই মধ্যে হয়ে পড়েছে বেহাল। সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য গর্ত। উঠে আসছে নিম্নমানের বিটুমিনযুক্ত পাথর। অনেক জায়গায় ধসে পড়েছে সড়কের পাশ।
এমন অবস্থা নোয়াখালীর চাটখিলে প্রায় আট কোটি টাকা ব্যয়ে সদ্য সংস্কার করা চাটখিল-খিলপাড়া সড়কের। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে সড়কটি দিয়ে চলাচলকারীরা।
স্থানীয়রা জানায়, প্রায় এক যুগ ধরে চলাচলের জন্য ব্যবহারের অযোগ্য ছিল চাটখিল-খিলপাড়া সড়ক। এতে স্থানীয়দের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল।
তাদের প্রত্যাশা ছিল একটি ভালোমানের টেকসই সড়ক হবে, কিন্তু সেই প্রত্যাশা হতাশায় রূপ নিয়েছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের চাটখিল উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চাটখিল-খিলপাড়া সড়কের সাত কিলোমিটার অংশে সংস্কারে সম্প্রতি সাত কোটি ৭৬ লাখ টাকার কাজটি পান ঠিকাদার মোরশেদ আলম।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সিডিউল অনুযায়ী কাজ না করা হয়নি। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। এ কারণে দুই মাসেই বেহাল হয়ে পড়েছে সড়কটি। সঠিক সময় সুরক্ষা দেয়াল নির্মাণ করা হয়নি। নিম্নমানের এবং পরিমাণে অল্প বিটুমিন ও সুগার মিলের গাদ ব্যবহার করা হয়েছে।
সম্প্রতি সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, সড়কটির বহু জায়গায় ফেটে চৌচির হয়ে গেছে, উঠে আসছে নিম্নমানের বিটুমিনযুক্ত পাথর। অন্তত ১০টি জায়গায় সড়ক ধসে পড়েছে। কার্যাদেশ অনুযায়ী বিটুমিনের পাথরের ৪০ মিলি ঢালাইয়ের জায়গায় দেওয়া হয়েছে ২৫ থেকে ৩০ মিলিমিটার। নির্মাণের পরপরই গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় অনেক অংশে পুনরায় বালি ও পাথর দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। সড়কের পাশের যেসব অংশ ধসে পড়েছে, সেসব অংশ বালুর বস্তা ও কালো পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।
ছয়ানী টবগা গ্রামের কফিল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূর থেকে বিটুমিন পাথর মিক্স করে এনে এখানে কাজ করেছেন ঠিকাদারের লোকজন। অত্যন্ত নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহার করা হয়েছে। এ কারণে কাজ শেষ হওয়ার পরপরই সড়কটির অধিকাংশ জায়গা ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা এই সড়ক পুনর্নিনির্মাণ এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চাই।
অটোরিকশাচালক হান্নান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই ভাঙা সড়ক নিয়ে আমরা অনেক কষ্ট করেছি। আশা ছিল সেই কষ্ট এবার লাঘব হবে, কিন্তু সে আশায় গুড়েবালি। সড়কটিতে অত্যন্ত নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে। তিনি বলেন, সড়কটি নির্মাণে কোটি কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। তাই নির্মাণের মান, তদারকি ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে তদন্ত হওয়া দরকার।
এই ব্যাপারে ঠিকাদার মোরশেদ আলম বলেন, সড়কটির কাজ এখনো আমরা শেষ করিনি। যেসব স্থানে সমস্যা দেখা দিয়েছে, তা অবশ্যই ঠিক করে দেব।
সড়ক ও জনপথের চাটখিল কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী আমির হোসেন বলেন, সড়কে যে বড় ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে, তা আমাদের নজরে রয়েছে। বৃষ্টিপাত একটু কমলেই এসব সমস্যার সমধানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী সফিকুল ইসলাম সড়কটির দূরবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, অতি দ্রুত শিডিউল অনুযায়ী কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশা করি, অতি অল্প সময়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কাজটি শেষ করবে।
সূত্র: কালের কন্ঠ



























