সোমবার ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

রংপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০:৫০, ২৩ আগস্ট ২০২৬

হত্যার পর গোসল করে খেজুর ও ইয়াবা সেবন করে খুনিরা : পুলিশ

হত্যার পর গোসল করে খেজুর ও ইয়াবা সেবন করে খুনিরা : পুলিশ
ছবি: সংগৃহীত

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। হত্যার পর বাসায় গোসল করে খেজুর ও অবশিষ্ট ইয়াবা সেবন করে অভিযুক্তরা। পরে ডাকাতির ঘটনা হিসেবে দেখাতে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে রাখা হয়।

শনিবার রাত ১০টার দিকে স্থানীয়রা বাড়ির ভেতর থেকে লাশের গন্ধ পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলের তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে তাঁর স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েসহ চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার মুগ্ধ নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে এবং সিদ্ধার্থ একই এলাকার বিনয়চন্দ্র দাসের ছেলে।

রবিবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ এসব তথ্য জানান।

পুলিশ কমিশনার বলেন, বৃহস্পতিবার দিবাগত শেষ রাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ পাশের একটি ভবনের ছাদে গিয়ে ইয়াবা সেবন করছিলেন। শব্দ পেয়ে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে গিয়ে তাঁদের আড্ডা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চান। পরিচয় গোপন রাখার জন্য তখন তাঁর গলায় থাকা গামছা পেঁচিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়।

গণপতির চিৎকার শুনে সিঁড়ি দিয়ে ওপরে ওঠার সময় তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তীকেও গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর মায়ের চিৎকার শুনে এগিয়ে আসা মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তীকেও গামছা ও রশি দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়।

পুলিশের কাছে অভিযুক্তরা জানিয়েছে, প্রার্থী চক্রবর্তী মারা যেতে প্রায় চার থেকে পাঁচ মিনিট সময় লাগে। এ সময় তাঁর গলায় ও মুখে রশি পেঁচিয়ে ধরে রাখা হয়। সর্বশেষ ঘুমন্ত অবস্থায় শিশু প্রিয়মকে কাপড় পেঁচিয়ে ও বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করা হয়।

পুলিশ কমিশনার জানান, তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে অভিযুক্তরা ইচ্ছাকৃতভাবে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে রাখে। এতে পুলিশ ঘটনাটিকে ডাকাতি হিসেবে মনে করবে বলে তারা ধারণা করেছিল। এ ছাড়া আঙুলের ছাপ যাতে না থাকে, সে জন্য বাসার দুটি মোবাইল ফোন ডিটারজেন্ট মিশ্রিত পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তরা বাসার একটি বাথরুমে গোসল করে। পরে ডাইনিং টেবিলে বসে খেজুর ও অবশিষ্ট ইয়াবা সেবন করে। এরপর জুমার নামাজের সময় রাস্তাঘাট ফাঁকা হলে কিছু স্বর্ণালংকার নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যায় তারা। পরে সেসব স্বর্ণালংকার নিকটবর্তী একটি মন্দিরের পেছনের পরিত্যক্ত জায়গায় লুকিয়ে রাখে। অভিযুক্তদের দেখানো মতে সেসব আলামত জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার নিজ বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়