মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫:১৪, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

সারের দাবিতে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ

সারের দাবিতে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ
ছবিঃ সংগৃহীত

সার সংকট এবং কালোবাজারে বিক্রির প্রতিবাদে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে হাতীবান্ধা উপজেলার পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের পারুলিয়া বাজার এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে মহাসড়কে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ থাকে। পরে ইউএনওর আশ্বাসে কৃষকরা অবরোধ তুলে নেন।

কৃষকদের অভিযোগ, পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট সার ডিলারের বাড়ি বগুড়ায় হওয়ায় স্থানীয় ‘জাদু মেম্বার’ ও ‘ভুট্টু’ নামের দুই ব্যক্তি সার বিতরণের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। রাতের আঁধারে পছন্দের লোকদের ১০-১২ বস্তা করে সার দিচ্ছেন। অন্যদিকে, সাধারণ কৃষকরা দিনের পর দিন ঘুরেও সার পাচ্ছেন না। সারের এমন চরম সংকটে বাধ্য হয়েই তারা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন।

পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক একরামুল বলেন, “যে সময়ে সারের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তখন সার না পেলে ফসল ফলাবো কীভাবে? প্রয়োজনে খোলাবাজারে ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেশি দিয়েও সার কিনতে রাজি আছি, তবুও যেন সঠিকভাবে চাষাবাদ করতে পারি। দীর্ঘদিন ঘুরেও সার না পেয়ে বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমেছি।”

একই ইউনিয়নের চরাঞ্চল ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক মমিনুর ইসলাম বলেন, “প্রকৃত কৃষকদের কাছে ন্যায্যমূল্যে সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। সেই সঙ্গে কালোবাজারে সার বিক্রিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।”

কৃষক আজিজুল ইসলাম জানান, এই সময়ে ভুট্টায় ঠিকমতো সার দিতে না পারলে গাছ লাল হয়ে যায় এবং ফলন চরমভাবে ব্যাহত হয়। সারাবছর সংসার চলে ভুট্টার আয়ের ওপর। সময়মতো সার না পেলে পথে বসতে হবে।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপ জন মিত্র। তিনি বিক্ষুব্ধ কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।

ইউএনও দীপ জন মিত্র বলেন, “কৃষকদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পর্যাপ্ত পরিমাণ সার আছে।”

হাতীবান্ধা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুন-অর রশিদ বলেন, “কৃষি বিভাগে পর্যাপ্ত সারের মজুত রয়েছে। তবে বিতরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগছে। প্রয়োজনে আগামী মাসের বরাদ্দ থেকেও সার দেওয়া হবে। বর্তমানে ছয়টি ওয়ার্ডে সার বিতরণ চলছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে তা শেষ হবে। এখানে কালোবাজারে সার বিক্রির কোনো সুযোগ নেই।”

সর্বশেষ

জনপ্রিয়