বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০০:২১, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনে ৫২ পর্যবেক্ষক মোতায়েন করেছে এএফইডি

ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনে ৫২ পর্যবেক্ষক মোতায়েন করেছে এএফইডি
ছবিঃ এআই

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রার্থী, রাজনৈতিক দল, নির্বাচন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ফেয়ার ইলেকশনস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি অ্যালায়েন্স (এএফইডি)।

 ২৯ অক্টোবর ২০২৬ অনুষ্ঠেয় নির্বাচন সামনে রেখে প্রাক-নির্বাচনী পর্যবেক্ষণে নির্বাচনী প্রচারে সহিংসতা না দেখলেও প্রচারসামগ্রী ছিঁড়ে ফেলা ও অপসারণ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি।

এএফইডি জানায়, ঠাকুরগাঁও-১ নির্বাচনী এলাকার তিনটি উপজেলায় তিনজন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়ে নির্বাচনী প্রচার পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এ সময় তিনজন প্রার্থীর প্রচার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি ১৯ জন নির্বাচন কর্মকর্তা, প্রার্থী ও প্রচার দলের সদস্যের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রার্থীরা সাধারণত বাধা ছাড়াই নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছেন। পর্যবেক্ষণ করা ২৭টি প্রচার অনুষ্ঠানে কোনো সহিংসতা দেখা যায়নি। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও পাননি পর্যবেক্ষকেরা। এসব অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তাদের কোনো প্রার্থীর পক্ষে অংশ নিতে বা সমর্থনমূলক মন্তব্য করতে দেখা যায়নি।

তবে কয়েকজন প্রার্থী ও তাঁদের প্রচার প্রতিনিধির অভিযোগ, পোস্টার ও অন্যান্য নির্বাচনী প্রচারসামগ্রী সরিয়ে ফেলা বা ছিঁড়ে ফেলার কারণে তাঁরা প্রচারে বাধার মুখে পড়েছেন। সাক্ষাৎকারদাতাদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এ ধরনের প্রতিবন্ধকতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। প্রচারসামগ্রী প্রদর্শনের ক্ষেত্রেও প্রার্থীদের মধ্যে দৃশ্যমানতার পার্থক্য দেখা গেছে। দুই প্রধান প্রার্থীর প্রচারসামগ্রী তুলনামূলকভাবে বেশি দৃশ্যমান ছিল।

এএফইডি প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকদের অন্যদের প্রচারসামগ্রীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রচারসামগ্রী নিয়ে ওঠা অভিযোগ ন্যায্যতা ও দ্রুততার সঙ্গে নিষ্পত্তি করার অনুরোধ জানিয়েছে।

নারীদের অংশগ্রহণের বিষয়ে পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, দুই-তৃতীয়াংশ প্রচার অনুষ্ঠানে নারীদের উপস্থিতি ছিল। তবে তাঁদের খুব কম ক্ষেত্রেই বক্তা হিসেবে দেখা গেছে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও জনপরিসরের আলোচনায় নারীদের বক্তব্য প্রদান, নেতৃত্ব দেওয়া এবং অর্থবহ ভূমিকা রাখার সুযোগ বাড়াতে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

পর্যবেক্ষকেরা আরও জানিয়েছেন, পর্যবেক্ষণ করা এলাকাগুলোতে ভোটারদের তথ্য দেওয়া ও সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম দৃশ্যমান ছিল না। বিশেষ করে পোস্টাল ভোটিং পদ্ধতি সম্পর্কে তথ্যের ঘাটতি ছিল। তবে সাক্ষাৎকার দেওয়া নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক ভোটার সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

এএফইডি ভোটদানের পদ্ধতি, পোস্টাল ভোটিং, ভোটকেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা ও ভোটারদের অধিকার সম্পর্কে সহজলভ্য তথ্য প্রচারের আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, বয়স্ক নাগরিক ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের নিরাপদে এবং মর্যাদার সঙ্গে ভোটদানের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।

প্রাক-নির্বাচনী পর্যবেক্ষণে সাক্ষাৎকার দেওয়া সব প্রার্থী বা তাঁদের প্রতিনিধিরা নির্বাচন প্রশাসনের কাছ থেকে সমান আচরণ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তাঁরা নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বলে মনে করেছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো প্রার্থীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও তাঁরা জানাননি।

এএফইডির তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিন পর্যন্ত ছয়টি অভিযোগ জমা পড়ে। এর বেশির ভাগই প্রচারসামগ্রী ছিঁড়ে ফেলার সঙ্গে সম্পর্কিত। নির্বাচন কর্মকর্তারা এসব অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেও প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে সেই পদক্ষেপগুলো যাচাই করতে পারেনি সংস্থাটি। তাই সব অভিযোগের বিষয়ে সময়মতো, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

নির্বাচনের দিন ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ৫২ জন ভ্রাম্যমাণ পর্যবেক্ষক মোতায়েন করেছে এএফইডি। তাঁরা নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করে ভোটগ্রহণ শুরুর প্রক্রিয়া, ভোটদান, ভোট গণনা এবং ডাকযোগে দেওয়া ভোট গণনা পর্যবেক্ষণ করবেন। তবে এ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সব ভোটকেন্দ্রের কার্যক্রম সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এএফইডি প্রার্থী, রাজনৈতিক দল, নির্বাচন প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সংযম প্রদর্শন, একে অপরের অধিকারকে সম্মান এবং প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি অনুসরণ করে অভিযোগ নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ভোটারদের ভয়, চাপ ও ভীতি প্রদর্শন ছাড়াই গোপন ব্যালটে ভোট দেওয়া এবং নিরাপদে বাড়ি ফেরার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি। নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ইউরোপীয় পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসি (ইপিডি) সহায়তা করছে।

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

জনপ্রিয়