সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী
চিনিশিল্পকে লাভজনক করতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে
দেশের চিনিশিল্পকে লাভজনক পর্যায়ে নিতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুল।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে নাটোরের লালপুর উপজেলার গোপালপুরে নর্থ বেঙ্গল চিনিকলের ২০২৬-২৭ মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আখচাষিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, আখ চাষে প্রণোদনা দেওয়া, উন্নত জাতের বীজ ও প্রযুক্তি সরবরাহ এবং চিনিকলের উৎপাদন বহুমুখীকরণের মাধ্যমে এ শিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার কাজ করছে সরকার।”
তিনি আরও বলেন, “আখ চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে সরকার আখের ক্রয়মূল্য বাড়িয়েছে। পাশাপাশি আখচাষিদের প্রণোদনা দেওয়া, নতুন জাতের বীজ ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং সেগুলো কৃষক পর্যায়ে সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নর্থ বেঙ্গল চিনিকলসহ দেশের অন্যান্য চিনিকলের উৎপাদন কার্যক্রম বহুমুখীকরণের পাশাপাশি বন্ধ চিনিকলগুলো পুনরায় চালু করতেও কাজ করছে সরকার।”
আখচাষিদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আখ এ অঞ্চলের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল। চিনিকল সচল রাখতে কৃষকদের নিয়মিত আখ সরবরাহ করতে হবে। এ চিনিকলের সঙ্গে শুধু কৃষক পরিবার নয়, এলাকার অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবন-জীবিকা জড়িয়ে রয়েছে। তাই চিনিকলকে সচল ও লাভজনক রাখা এ অঞ্চলের অর্থনীতি এবং মানুষের জীবিকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।”
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. শামছুজ্জামান সুরুজ সভাপতিত্ব করেন। স্বাগত বক্তব্য দেন নর্থ বেঙ্গল চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফরিদ হোসেন ভূঁইয়া।
চিনিকল সূত্রে জানা যায়, ২০২৬-২৭ মাড়াই মৌসুমে এক লাখ ৮০ হাজার টন আখ মাড়াই করে ১১ হাজার ৭০০ টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ মৌসুমে চিনি আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। মাড়াই কার্যক্রম চলবে ১২৫ দিন।
এদিকে আখ চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে গত মৌসুমের তুলনায় চলতি মৌসুমে প্রতি কুইন্টাল আখের ক্রয়মূল্য ২৬ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, চিনিকলের গেটে প্রতি কুইন্টাল আখের দাম ৬৫১ টাকা এবং আখ সংগ্রহ কেন্দ্রগুলোতে ৬৩৭ টাকা ৪৬ পয়সা।



























