ঢাকা কলেজে শুরু হলো তিন দিনব্যাপী চতুর্থ জাতীয় সাংস্কৃতিক উৎসব
ঢাকা কলেজের সাংস্কৃতিক সংগঠন ঢাকা কলেজ কালচারাল ক্লাবের আয়োজনে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী চতুর্থ জাতীয় সাংস্কৃতিক উৎসব।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে কলেজের শহীদ আ ন ম নজীব উদ্দিন খান খুররম অডিটোরিয়ামে উৎসবের উদ্বোধন করেন ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক আনোয়ার মাহমুদ, ইতিহাস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও ঢাকা কলেজ কালচারাল ক্লাবের আহ্বায়ক অধ্যাপক কাজী খোরশেদ তালাত বানুসহ কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রতিযোগীরা।
অর্ধশতাধিক স্কুল ও কলেজের প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে আয়োজিত এ উৎসব চলবে আগামী রোববার পর্যন্ত। উৎসবের প্রথম দিনে রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, আধুনিক গান, লোকসংগীত, কবিতা আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কনসহ প্রায় ২০টি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
উৎসবে অংশ নিতে আসা ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থী জুবায়ের বলেন, “অনেক দূর থেকে এ উৎসবে অংশ নিতে এসেছি। এখানে অংশগ্রহণ করতে পেরে খুব ভালো লাগছে। এ আয়োজন থেকে অনেক কিছু জানা, বোঝা ও শেখার সুযোগ পাচ্ছি। পাশাপাশি নতুন নতুন বিষয় দেখার অভিজ্ঞতাও হচ্ছে। সব মিলিয়ে আয়োজনটি বেশ উপভোগ করছি।”
আয়োজনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে ঢাকা কলেজ কালচারাল ক্লাবের সভাপতি ওয়ালিদ হাসান রাহিম বলেন, “আমাদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ও হারিয়ে যাওয়া অতীত সবার সামনে তুলে ধরতে এ বছর ‘পুরোনো সেই দিনের কথা’ প্রতিপাদ্যে উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। আমরা ধীরে ধীরে নিজেদের শিকড় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ভুলে যাচ্ছি। সেই উপলব্ধি থেকেই এ আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, “আমরা বর্তমানে সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের একটি সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। আকাশ সংস্কৃতি ও অনলাইন সংস্কৃতির প্রভাবে আমাদের সংস্কৃতিতে নানা ধরনের পরিবর্তন আসছে। এর ফলে একদিকে সংস্কৃতি সমৃদ্ধ হচ্ছে, অন্যদিকে আমরা নিজেদের ঐতিহ্য ও স্বকীয়তা থেকে কিছুটা দূরে সরে যাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “এই পরিবর্তনের মধ্যেও নিজেদের সাংস্কৃতিক ধারা ও ঐতিহ্য চর্চার মাধ্যমে এগিয়ে নিতে হবে। সেই লক্ষ্যেই আজকের এ আয়োজন। আমি বিশ্বাস করি, এ ধরনের উদ্যোগ আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে। আয়োজকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় উৎসবটি সফল হবে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের সাংস্কৃতিক চর্চা অব্যাহত থাকবে।”



























