ট্রিপল টাইম কমিউনিকেশনের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ
কনসার্টের নামে টিকিট বিক্রি, অনুষ্ঠান বাতিলের পরও টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ
রাজধানীতে একের পর এক কনসার্ট আয়োজন, টিকিট বিক্রি, অনুষ্ঠান বাতিল ও দর্শক-ভোগান্তি—এসব নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান ট্রিপল টাইম কমিউনিকেশন। এবার প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কনসার্টের নামে হাজারো মানুষের কাছ থেকে টিকিটের টাকা নেওয়ার পর অনুষ্ঠান বাতিল করে অর্থ ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, ‘হাইপ নেশন’ ও ‘ট্রিপল টাইম কমিউনিকেশন’-এর ব্যানারে শিল্পী অনুভ জায়ান -এর কনসার্ট আয়োজনের ঘোষণা দিয়ে প্রায় ৫ থেকে ৭ হাজার দর্শকের কাছ থেকে টিকিটের টাকা নেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর ইউনাইটেড কোর্টসাইডে অনুষ্ঠানটি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগেই অনুষ্ঠান বাতিল করা হলেও টিকিটের টাকা যথাসময়ে ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
এ ঘটনায় অন্তত দুই ভুক্তভোগী সংবাদ পরিক্রমার কাছে তাদের ক্ষোভ ও অভিযোগের কথা জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী তাসদীদ সৌখিনের অভিযোগ, টিকিটের টাকা ফেরত চাইতে গেলে উল্টো তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, টাকা ফেরতের বিষয়ে যোগাযোগ করলেই তৈরি করা হয় নানা ধরনের চাপ ও ভয়ভীতি।
আরেক ভুক্তভোগী এইচ এম আব্দুল্লাহ বলেন, ট্রিপল টাইম কমিউনিকেশন আয়োজক হিসেবে থাকায় তিনি অনুষ্ঠানের টিকিট কেনার জন্য অর্থ দেন। কিন্তু অনুষ্ঠান বাতিলের পরও সেই টাকা ফেরত পাননি। তার অভিযোগ, পাওনা টাকা চাইতে গেলে অর্থ ফেরতের পরিবর্তে ক্রমাগত হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে।
এক কনসার্ট ঘিরে পুরোনো বিতর্ক
ট্রিপল টাইম কমিউনিকেশনের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকায় এবার নতুন করে যুক্ত হলো টিকিটের টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ। এর আগে ২০২৪ সালের ২৯ নভেম্বর রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে পাকিস্তানি শিল্পী আতিফ আসলাম-এর কনসার্ট আয়োজন করেছিল প্রতিষ্ঠানটি।
সেই আয়োজন নিয়েও বিভিন্ন গণমাধ্যমে নানা ধরনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছিল। দর্শকদের একাংশের অভিযোগ ছিল, টিকিট কেনার পরও নির্ধারিত আসন পাওয়া যায়নি। কেউ কেউ টিকিট থাকার পরও অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করতে পারেননি বলেও অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ ছিল, স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা ও আসনসংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখেই টিকিট বিক্রির কারণে অনুষ্ঠানস্থলে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ফলে কনসার্ট উপভোগ করতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হন বহু দর্শক।
ঘোষণা আসে, কনসার্ট আর হয় না—এ কেমন আয়োজন?
শুধু আতিফ আসলামের কনসার্ট নয়, ট্রিপল টাইম কমিউনিকেশনের সাম্প্রতিক আয়োজন নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
চলতি বছরের ২৬ জুন রাজধানীর ইউনাইটেড কনভেনশনে শিল্পী অনুপম রায়-এর কনসার্ট আয়োজনের কথা ছিল ট্রিপল টাইম কমিউনিকেশনের। কিন্তু ঘোষণার পরও সেই আয়োজন বাস্তবে আলোর মুখ দেখেনি বলে জানা গেছে।
এদিকে আগামী ১ আগস্ট এইচএসপি কমিউনিকেশন ও ট্রিপল টাইম কমিউনিকেশনের যৌথ আয়োজনে ইউনাইটেড কনভেনশনে অনুপম রায়ের কনসার্ট আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
একই প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক আয়োজন, পূর্বের বিতর্ক এবং অনুষ্ঠান বাতিলের ঘটনাগুলো সামনে রেখে নতুন এই কনসার্ট নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ।
কেপিআই এলাকায় কনসার্ট—নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন
ইউনাইটেড কনভেনশনকে কেন্দ্র করে ১ আগস্টের প্রস্তাবিত আয়োজন নিয়েও উঠেছে নিরাপত্তার প্রশ্ন। সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের দাবি, কেপিআইভুক্ত এলাকায় বিপুলসংখ্যক দর্শকের উপস্থিতিতে বড় পরিসরের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হলে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
তাদের আশঙ্কা, পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না গেলে অতীতের মতো বিশৃঙ্খলা, দর্শক ভোগান্তি কিংবা নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
বিশেষ করে যেখানে একটি প্রতিষ্ঠানের পূর্ববর্তী আয়োজন ঘিরে টিকিট, প্রবেশ ও আসন ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগ রয়েছে, সেখানে নতুন আয়োজনের আগে আয়োজকদের ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে স্বচ্ছতা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এসব অভিযোগের বিষয়ে ট্রিপল টাইম কমিউনিকেশনের সত্ত্বাধিকারী প্রীতম দে-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন। তবে টিকিটের অর্থ ফেরত না দেওয়া ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগের দায় নিজের প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে হাইপ নেশনের ওপর চাপানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
তবে ভুক্তভোগীদের দাবী —কনসার্টের প্রচার, টিকিট বিক্রি ও আয়োজনে প্রধান ভূমিকায় ছিল ট্রিপল টাইম কমিউনিকেশন। দর্শকদের কাছ থেকেও অর্থ সংগ্রহও তারাই করেন।



























