শনিবার ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮:৪৮, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ঢাবিতে উপদেষ্টা সাখাওয়াত, বিডার আশিকসহ কয়েকজনের কুশপুত্তলিকা দাহ

ঢাবিতে উপদেষ্টা সাখাওয়াত, বিডার আশিকসহ কয়েকজনের কুশপুত্তলিকা দাহ
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এ উদ্যোগের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজু ভাস্কর্যে কর্মসূচি পালন করেছে ‘সংক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী সমাজ’।

কর্মসূচিতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।

এ সময় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ‘ইকোনমিক হিটম্যান’ আখ্যা দেন। তাদের অভিযোগ, এ ধরনের প্রভাবশালী মধ্যস্থতাকারীরা উন্নয়ন ঋণ, নীতি পরামর্শ ও করপোরেট চুক্তির আড়ালে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে উচ্চঝুঁকির ঋণ, অসম চুক্তি এবং কৌশলগত বিনিয়োগে জড়িয়ে ফেলেন।

এর ফলে দেশের কৌশলগত সম্পদ, অর্থনৈতিক নীতি ও সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুহিউদ্দিন রাহাত। তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগমুহূর্তে সরকার অতিরিক্ত তোড়জোড় করে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দিতে চাইছে। যেন এই বন্দর হস্তান্তর না হলে সরকারের মিশন ও ভিশনই ব্যর্থ হয়ে যাবে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকারের ভেতরে চার ব্যক্তি বিদেশি কোম্পানির কাছ থেকে কমিশন নিয়ে এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে হস্তান্তরের চেষ্টা করছেন। এসব ব্যক্তি চট্টগ্রাম বন্দর লিজ দেওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল চৌধুরী বলেন, “এখানে শুধু বন্দর নয়, পার্বত্য অঞ্চলও জড়িত। এই চুক্তির মাধ্যমে পাহাড়ের ভূমি ও স্বার্থ হুমকির মুখে পড়তে পারে।” তিনি সরকারকে দ্রুত এ বিষয়ে সমাধানে আসার আহ্বান জানান।

শিক্ষার্থীদের দাবি, দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দিলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। এনসিটি ইজারা দেওয়ার পরিকল্পনা বাতিল না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।