শনিবার ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ২০ পৌষ ১৪৩২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:৪১, ৩ জানুয়ারি ২০২৬

সৌদির বিমান হামলায় ইয়েমেনে নিহত ২০

সৌদির বিমান হামলায় ইয়েমেনে নিহত ২০
ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনের দক্ষিণ–পূর্বাঞ্চলের তেলসমৃদ্ধ হাদরামাউত প্রদেশে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের চালানো বিমান হামলায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ২০ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া হামলায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিকের উপস্থিতিও নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সময়ে প্রদেশজুড়ে স্থলযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী ও দক্ষিণ ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি)–ঘনিষ্ঠ যোদ্ধারা।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য উদ্ধৃত করে আল জাজিরা জানায়, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় হাদরামাউতের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে অন্তত ২০ জন এসটিসি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।

এসটিসির একজন সামরিক কর্মকর্তা ও চিকিৎসা সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রদেশটির সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি আল-খাশা ক্যাম্পে একের পর এক সাতটি বিমান হামলা চালানো হয়। পাশাপাশি সেয়ুন সামরিক ঘাঁটিতেও প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে।

ওয়াদি হাদরামাউত ও হাদরামাউত মরুভূমি অঞ্চলের এসটিসি প্রধান মোহাম্মদ আবদুল মালিক অভিযোগ করে বলেন, সৌদি যুদ্ধবিমানগুলো ধারাবাহিকভাবে এসটিসির অবস্থানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। আল-খাশা ক্যাম্পের কাছের একটি গ্রামের বাসিন্দা রেয়াদ খামেস জানান, “আমরা আকাশজুড়ে আলোর ঝলকানি আর প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ছাড়া কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। চেকপয়েন্টে হামলা চালিয়ে পথ পরিষ্কার করা হচ্ছে, যাতে সৌদি সমর্থিত বাহিনী এগোতে পারে।”

স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, হাদরামাউতের সামরিক ঘাঁটি ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে এসটিসি-সমর্থিত বাহিনী ও ইয়েমেনি সেনাদের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষই মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে।

এই সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই শুক্রবার দক্ষিণ ট্রানজিশনাল কাউন্সিল দুই বছরের একটি অন্তর্বর্তী শাসনব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দিয়েছে। এই সময়ে তারা ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চল পরিচালনা করবে এবং পরবর্তী ধাপে দক্ষিণ ইয়েমেনের স্বাধীনতা প্রশ্নে গণভোট আয়োজনের কথা জানিয়েছে।

এর আগে গত মাসে এসটিসি হাদরামাউত ও পূর্বাঞ্চলীয় আল-মাহরাহ প্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিলে ইয়েমেন সরকার ও এসটিসির মধ্যকার উত্তেজনা আরও তীব্র হয়। সৌদি আরব এই অঞ্চলগুলোকে ‘রেড লাইন’ হিসেবে বিবেচনা করে, কারণ এগুলো দেশটির সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত এবং ইয়েমেনের অবশিষ্ট জ্বালানি সম্পদের বড় অংশ এখানেই রয়েছে।

জনপ্রিয়