মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০০:১৪, ৩ নভেম্বর ২০২৬

নেতানিয়াহুকে হটাতে বিরোধীদের ঐক্য, প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন আইজেনকট

নেতানিয়াহুকে হটাতে বিরোধীদের ঐক্য, প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন আইজেনকট
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্যে আলোচনা জোরদার করেছে বিরোধী জোট। এরই মধ্যে জোটের দুই নেতা নাফতালি বেনেট ও ইয়ার গোলান পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গাদি আইজেনকটের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে গিয়ে বেশ কিছু রাজনৈতিক সমীকরণের মুখে পড়তে হচ্ছে বিরোধীদের।

রোববার (১ নভেম্বর) দিনভর এ নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা ও দর-কষাকষি চলে। 

সোমবার (২ নভেম্বর) এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দ্য টাইমস অব ইসরায়েল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নেতানিয়াহুবিরোধী চারটি জায়নবাদী দলের সমন্বয়ে গঠিত ‘চেঞ্জ ব্লক’ নতুন সরকার গঠনের সম্ভাব্য পথ খুঁজছে। তবে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য তাদের আরব নেতৃত্বাধীন দল, অতি-অর্থোডক্স ইহুদি দল অথবা নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সঙ্গে সমঝোতায় যেতে হতে পারে। এসব দলের সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে জোটের ভেতরেও রয়েছে নানা জটিলতা।

বিরোধী জোটের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে এগিয়ে রয়েছেন ইয়াশার পার্টির প্রধান গাদি আইজেনকট। নির্বাচনে তার দল ২১টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে নাফতালি বেনেটের বি'ইয়াচাদ পার্টি ১২টি এবং ইয়ার গোলানের নেতৃত্বাধীন ডেমোক্র্যাটস পার্টি আটটি আসন পেয়েছে।

আইজেনকটের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বেনেট বলেছেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময় ভোটারদের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান দেখানোর যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, সেই অবস্থান থেকেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একইভাবে আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী পদে মনোনীত করার পক্ষে মত দিয়েছেন ইয়ার গোলানও। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানিয়েছে।

এদিকে জোটের চতুর্থ দল ইসরায়েল বেইতেনুর প্রধান আভিগদর লিবারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন আইজেনকট। তবে আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সংখ্যালঘু সরকার গঠনের প্রশ্নে দুজনের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। লিবারম্যানের দাবি, নির্বাচনী প্রচারণার সময় এ ধরনের সরকার গঠনের সম্ভাবনা সামনে আনায় বিরোধী জোট রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সরকার গঠনের পাশাপাশি পার্লামেন্টের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকেও অগ্রাধিকার দিচ্ছে বিরোধী জোট। এ লক্ষ্যে নেসেটের বর্তমান স্পিকার আমির ওহানাকে সরিয়ে নতুন স্পিকার নিয়োগের পরিকল্পনা করছে তারা। ওহানা নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সদস্য। পার্লামেন্টের কার্যসূচি নিয়ন্ত্রণ এবং গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের পথ সুগম করতেই স্পিকার পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তবে এ উদ্যোগ নিয়ে বিরোধীদের সতর্কবার্তা দিয়েছে নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ মহল। তাদের পক্ষ থেকে আইজেনকটকে জানানো হয়েছে, স্পিকার ওহানাকে সরানোর প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে লিকুদ পার্টির সঙ্গে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না। জবাবে আইজেনকটের ঘনিষ্ঠজনেরা জানিয়েছেন, স্পিকার পরিবর্তনের উদ্যোগ থেকে সরে আসার পরিকল্পনা নেই তাদের। একই সঙ্গে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারে যোগ দেওয়ার বিষয়টিও তারা বিবেচনা করছেন না।

এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রক নিয়োগের নির্বাচন নতুন করে আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও ভাবছে বিরোধী জোট। গত জুনে নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত আইনজীবী মাইকেল রাবেলোকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে ওই নির্বাচন নিয়ে বিতর্কের জেরে দেশটির হাইকোর্ট পুনরায় ভোট আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর রাজনৈতিক উদ্যোগ জোরালো হলেও নতুন সরকার গঠনের পথ এখনো সহজ নয়। বিশেষ করে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে আরব ও অতি-অর্থোডক্স দলগুলোর সমর্থন নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে বিরোধী জোটের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্পর্কিত বিষয়:

জনপ্রিয়