মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:১১, ২৪ আগস্ট ২০২৬

মাগুরার আলোচিত শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় মঙ্গলবার

মাগুরার আলোচিত শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় মঙ্গলবার
ছবি: সংগৃহীত

মাগুরায় বহুল আলোচিত আট বছরের শিশু আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে। শুনানি শেষে রায়ের জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ দিন ধার্য করেন।

আদালতে হিটু শেখের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক শুনানি করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের ৫ মার্চ রাতে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় আট বছরের শিশু আছিয়া। তার বোনের শ্বশুর হিটু শেখ শিশুটিকে ধর্ষণের পাশাপাশি হত্যার চেষ্টা করেন। পরে গুরুতর অবস্থায় শিশুটিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ মামলার সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল মামলাটির অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। ২৭ এপ্রিল শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দেন। ৭ মে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

এরপর ১৩ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসানের আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। একই বছরের ১৭ মে মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।

রায়ে প্রধান আসামি হিটু শেখকে (৪৭) ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তবে মামলার অপর তিন আসামি—শিশুটির বোনের স্বামী সজীব শেখ (১৯), সজীবের ছোট ভাই (১৭) এবং সজীবের মা জাহেদা বেগম (৪০)—খালাস পান।

আইন অনুযায়ী, কোনো বিচারিক আদালত মৃত্যুদণ্ড দিলে সেই রায় অনুমোদনের জন্য মামলার নথিপত্র উচ্চ আদালতে পাঠাতে হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২১ মে এ মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। যাচাই-বাছাই শেষে মামলার পেপারবুক প্রস্তুতের জন্য তা বিজি প্রেসে পাঠানো হয়।

পেপারবুক প্রস্তুত হওয়ার পর চলতি বছরের ৮ জুন তা হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পরে মামলাটি শুনানির জন্য বিশেষায়িত বেঞ্চের কার্যতালিকায় ওঠে। সোমবার ডেথ রেফারেন্স ও হিটু শেখের আপিলের শুনানি শেষ হওয়ার পর মঙ্গলবার রায়ের দিন নির্ধারণ করেন হাইকোর্ট।

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

জনপ্রিয়