মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:৫৪, ২৪ আগস্ট ২০২৬

যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন হলে ইউক্রেন ‘ভাগ হয়ে যাবে’: জেলেনস্কি

যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন হলে ইউক্রেন ‘ভাগ হয়ে যাবে’: জেলেনস্কি
ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ চলার সময়ে ইউক্রেনে নির্বাচন আয়োজন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানানোর পর রোববার প্রকাশিত এক বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

রাজনৈতিক চাপের মুখে জেলেনস্কি নরওয়ের সঙ্গে নতুন একটি ড্রোন চুক্তিরও ঘোষণা দিয়েছেন। রাশিয়াকে হামলা বন্ধে চাপ দেওয়ার উপায় নিয়ে সোমবারের বৈঠকের আগে ইউরোপীয় নেতারা আলোচনার জন্য কিয়েভে পৌঁছেছেন। কিয়েভ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

ইউক্রেন সামরিক আইন জারি থাকায় নির্বাচন স্থগিত রেখেছে। রুশ হামলা মোকাবিলায় দেশটি মনোযোগ দেওয়ায় জনগণের বড় অংশ এখনও এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে।

২০২২ সালে রুশ হামলা শুরুর পর থেকেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান পেয়ে আসছেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তাকে নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন। এর মধ্যেই মস্কো প্রতিদিন ইউক্রেনজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

জেলেনস্কি বলেন, ‘এ ধরনের যুদ্ধে নির্বাচন আয়োজন করাটা অত্যন্ত বড় ঝুঁকি বলে আমি মনে করি। এখন নির্বাচন ইউক্রেনের জন্য সুনামির মতো হবে, যা দেশটিকে বিভক্ত করে দেবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি দেশটিকে ধ্বংস করতে চাই, তাহলে এই যুদ্ধের সময়ে নির্বাচন আয়োজনের পথে এগোতে পারি।’

শনিবার এএফপিসহ সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

-নির্বাচন আয়োজনের বাধা-

জেলেনস্কি জনপ্রিয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে বরখাস্ত করার পর চলতি গ্রীষ্মে কিয়েভে রাজনৈতিক সংকট দেখা দেয়।

হাজার হাজার মানুষ তার পুনর্বহালের দাবিতে রাস্তায় নামে। এ সময় ফেদোরভ সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের তীব্র সমালোচনা করেন।

এই বিরোধের জেরে জেলেনস্কিকে সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ককে বরখাস্ত করতে হয়। এরপর কয়েক দিন আগে বরখাস্ত হওয়া ফেদোরভ নির্বাচন আয়োজনের উপায় খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়ে বিস্ময় সৃষ্টি করেন।

তিনি সরাসরি জেলেনস্কির বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা বলেননি। তবে তার এই আকস্মিক উদ্যোগে এমনকি তার কিছু সমর্থকও দূরত্ব তৈরি করেন।

বিশেষজ্ঞরা নির্বাচন আয়োজনের পথে নানা বাধার কথা বলেছেন।

এর মধ্যে রয়েছে সেনাসদস্য, লাখ লাখ ইউক্রেনীয় শরণার্থী এবং রুশ দখলকৃত এলাকার বাসিন্দারা কীভাবে ভোট দেবেন, তা নির্ধারণ করা। এর পাশাপাশি রাশিয়ার হস্তক্ষেপ ও শারীরিক হামলার আশঙ্কাও রয়েছে।

একটি জনমত জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ১৫ শতাংশ ইউক্রেনীয় মনে করেন, যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগে নির্বাচন হওয়া উচিত।

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় দেশের ভেতরে জেলেনস্কির সমালোচনা বাড়লেও তিনি এখনও ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়।

ফেদোরভের দল রোববার এএফপিকে নিশ্চিত করেছে, তিনি শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাবেন। এই সফরের ফলে তিনি জেলেনস্কির প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে।

সাবেক এই প্রতিরক্ষামন্ত্রী ড্রোন যুদ্ধের কৌশলের অন্যতম প্রধান সমর্থক ছিলেন। রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের যুদ্ধে এই কৌশল এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি সেনাবাহিনীতে সংস্কারের পক্ষেও ছিলেন। এতে তিনি জনসমর্থন পেয়েছিলেন।

সূত্র: এএফপি

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

জনপ্রিয়