রোববার ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪:৩৭, ৮ নভেম্বর ২০২৬

জোবায়েদ হত্যা মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরু

জোবায়েদ হত্যা মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরু
ছবিঃ সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও গৃহশিক্ষক জোবায়েদ হোসেন হত্যা মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৯ ডিসেম্বর মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আদালত।

রোববার (৮ নভেম্বর) ঢাকার ২০তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মাজহারুল ইসলাম এ আদেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মাজেদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার তিন আসামি হলেন বার্জিস শাবনাম বর্ষা, মাহির রহমান ও ফারদীন আহম্মেদ আয়লান। তাদের মধ্যে বর্ষা জোবায়েদের ছাত্রী, মাহির তার প্রেমিক এবং আয়লান মাহিরের বন্ধু। তিনজনই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। অভিযোগ গঠনের শুনানিতে তাদের আদালতে হাজির করা হয়।

শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের অব্যাহতির আবেদন জানান। অন্যদিকে, বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশতিয়াক হোসেন জিপু অভিযোগ গঠনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। এ সময় আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় টিউশনি করাতে গিয়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন জোবায়েদ। ওইদিন বিকেলে বংশালের নুর বক্স লেনের রৌশান ভিলায় বর্ষাকে পড়াতে যান তিনি। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ভবনটির নিচতলায় তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়।

ঘটনার দিন সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে বর্ষা জোবায়েদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট ভাই সৈকতকে মেসেঞ্জারে বার্তা দিয়ে জানান, কে বা কারা জোবায়েদকে হত্যা করেছে। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কামরুল হাসান ফোন করে সৈকতকে বিষয়টি জানান।

সৈকত তার শ্যালক শরীফ মোহাম্মদকে সঙ্গে নিয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে যান। ভবনের সিঁড়ি ও দেয়ালে রক্তের দাগ দেখতে পাওয়ার পর তৃতীয় তলার সিঁড়িতে জোবায়েদের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তারা।

এ ঘটনায় জোবায়েদের বড় ভাই ঘটনার দুই দিন পর বংশাল থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে গত ৩০ জুন বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফ হোসেন তিন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় গত ১২ আগস্ট মামলাটি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়। এরপর অভিযোগ গঠনের শুনানি তিন দফা পিছিয়ে যায়। সর্বশেষ গত ২৮ অক্টোবর আসামিপক্ষকে শুনানির জন্য শেষবারের মতো সময় দিয়েছিলেন আদালত।

জনপ্রিয়