সোমবার ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:৩৫, ২ নভেম্বর ২০২৬

শিল্পপতি শওকত আজিজ রাসেল কারাগারে

শিল্পপতি শওকত আজিজ রাসেল কারাগারে
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির মামলায় ১৪ বছরের কারাদণ্ড পাওয়া পারটেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত এম এ হাসেমের ছেলে শওকত আজিজ রাসেলকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রবিবার (১ নভেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক মো. আব্দুস সালামের আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে জামিন আবেদন করেন রাসেল।

পরে শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

দুদক প্রসিকিউটর খন্দকার শামীম হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পূর্বাচলে প্লট দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি শওকত আজিজ রাসেল আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। তার পক্ষের আইনজীবীরা এ মামলায় রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শর্তে জামিন আবেদন করেন। একইসঙ্গে কারাগারে ডিভিশন চাওয়া হয়।

পরে আদালত তার জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে গত ১৩ অক্টোবর​ একই আদালত রাসেলসহ আটজনকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে রায় দেন।

​দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক সদস্য এস. ডি. ফয়েজ, এ. কে. এম. ওয়াহেদুল ইসলাম, এস. এম. জাফর উল্লাহ, এইচ. এম. জহুরুল হক, মোঃ রেজাউল করিম তরফদার, পারটেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত এম এ হাসেমের দুই ছেলে শওকত আজিজ রাসেল ও আশফাক আজিজ রুবেল। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে জরিমানাও করা হয়।

মামলার রায়ে শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজকে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তাদের উভয় ধারায় ৭ বছর করে ১৪ সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা করে ২০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ১ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

অপরদিকে রাজউকের সাবেক ৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রত্যেক ধারায় তাদের ৭ বছর করে মোট ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা করে ২০ লাখা টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরো ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আসামিদের হাজতবাস মূল দণ্ডাদেশ থেকে বাদ যাবে এবং উভয় ধারার সাজা একসঙ্গে চলবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

তবে দণ্ডবিধির ৪২০ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আসামিদের ওই ধারা থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজের নামে বরাদ্দকৃত সেক্টর-০১, রোড-৪০৫, প্লট নম্বর-০১১ ও ০১৩-এই দুটি প্লটের বরাদ্দ বাতিল করে রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেন আদালত।

প্রভাব খাটিয়ে পূর্বাচলে ২০ কাঠা প্লট বরাদ্দ দেওয়া ও নেওয়ার অভিযোগে ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মামলা করে দুদক। দুদকের তৎকালীন উপসহকারী পরিচালক সিলভিয়া ফেরদৌস বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজের নামে পূর্বাচলে ১০ কাঠা করে ২০ কাঠার দুটি প্লট বরাদ্দ দেন, যাতে রাষ্ট্রের ক্ষতি হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে শওকত আজিজ রাসেলের বিরুদ্ধে আম্বার ওভারশিসের নামে লন্ডনে একটি রিয়েল এস্টেট ব্যবসা খুলে ওই প্রতিষ্ঠানের নামে লন্ডন রিজেন্ট পার্ক এলাকায় একাধিক বিলাবহুল বাড়ি কেনার তথ্য প্রকাশ হয়। যার বাজারমূল্য হাজার কোটি টাকার অধিক। ওই সময়েই তিনি বাংলাদেশের ১৪টি ব্যাংক থেকে ১ হাজার ৩৪৩ কোটির টাকার লোন নিয়ে ৫২১ কোটি টাকা ওভারডিউ হয়ে আলোচনায় আসেন। বর্তমানে তার ব্যাংকগুলোতে মোট স্থিতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৯০০ কোটি টাকা। পরে তিনি উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন করে ওইসব ব্যাংক ঋণের ওপর স্টে অর্ডার নেন। তবে সম্প্রতি কয়েকটি ব্যাংকের আদালতের স্টে অর্ডার বাতিল করেন হাইকোর্ট। এছাড়া এর আগে নারী কেলেঙ্কারির একাধিক ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় এবং সমালোচনা হয়।

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

জনপ্রিয়