সোমবার ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:১৫, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

দেড় বছরে ১৮৯ সাংবাদিক চাকরিচ্যুত: টিআইবি

দেড় বছরে ১৮৯ সাংবাদিক চাকরিচ্যুত: টিআইবি
ছবি: সংগৃহীত

গত দেড় বছরে দেশের গণমাধ্যম খাতে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই সময়ে অন্তত ১৮৯ জন সাংবাদিক চাকরিচ্যুত হয়েছেন এবং ২৯টি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ে রদবদল ঘটেছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। দায়িত্ব পালনকালে হামলায় ৬ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। টিআইবির কনফারেন্স রুমে ‘কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী দেড় বছর : প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক গবেষণায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গণমাধ্যমের ওপর সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব তৈরির সুস্পষ্ট চেষ্টা না থাকলেও ‘মব’ সহিংসতার মাধ্যমে গণমাধ্যম কার্যালয়গুলোতে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। সাংবাদিক, লেখক ও মানবাধিকারকর্মীদের ওপর হামলা ও হয়রানির ঘটনাও অব্যাহত রয়েছে।

টিআইবির তথ্য অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনকালে হামলায় ছয়জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি আগস্ট ২০২৪ থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ সময়কালে গণমাধ্যমকর্মীদের বিরুদ্ধে ৪৯৭টি হয়রানির ঘটনা ঘটেছে, যাতে প্রায় ১ হাজার ১০৪ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী হয়রানির শিকার হন।

প্রতিবেদনে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার পত্রিকার কার্যালয়ে নজিরবিহীনভাবে মব সৃষ্টি করে হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলা হয়, এসব ঘটনায় সরকারের ভূমিকা ছিল নিষ্ক্রিয় ও অকার্যকর।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংক্রান্ত হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন মামলায় ২০৪ জন সাংবাদিককে আসামি করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এসব মামলায় অন্তত ৩০ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং অনেককে জামিন থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে।

গণমাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে টিআইবি জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে প্রতিপক্ষ দল ও সরকারের বিরুদ্ধে গুজব ও মিথ্যা তথ্য প্রচারের প্রবণতা বেড়েছে। বিরুদ্ধ মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ‘ট্যাগ’ ব্যবহার এবং গণমাধ্যমের ফটোকার্ড ও লোগো ব্যবহার করে অপতথ্য ছড়ানোর ঘটনাও উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার বাড়লেও এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

রিপোর্টারস উইদাউট বর্ডার (আরএসএফ)-এর ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে প্রেস ফ্রিডম সূচকে বাংলাদেশ ১৬ ধাপ উন্নতি করলেও গণমাধ্যমের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ এখনো নিশ্চিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছে টিআইবি।

গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন স্বাধীন গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতার অন্তরায় হিসেবে ১৩টি আইনের বিভিন্ন ধারা চিহ্নিত করলেও সেগুলো সংস্কারের জন্য যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কমিশন প্রণীত সাংবাদিক সুরক্ষা আইনের খসড়া কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়াই বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া তথ্য মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিতে কমিটি গঠন করলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। গণমাধ্যম নিবন্ধন প্রক্রিয়া এখনো কর্তৃত্ববাদী শাসনামলের মতোই বিদ্যমান রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।