‘ছোটবেলায় মনে হতো আমার নাক বেশি বোঁচা’
শোবিজ অঙ্গনের পরিচিত মুখ সামান্তা পারভেজ—ক্যামেরার সামনে আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি আর স্বাভাবিক অভিনয়ে যিনি ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন। পর্দার আড়ালের মানুষটাকে নিয়ে বরাবরই দর্শকের কৌতূহল। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যক্তিগত জীবন, নামের পেছনের গল্প, শৈশবের হীনম্মন্যতা আর ক্যারিয়ারের টানাপোড়েন—সবকিছুই খোলামেলা ভাবে তুলে ধরেছেন এই অভিনেত্রী।
‘পারভেজ’ নামের রহস্য ও শৈশবের ডাকনাম নিজের নামের শেষে ‘পারভেজ’ থাকা নিয়ে কোনো অস্বস্তি নেই সামান্তার। বরং বিষয়টি তিনি উপভোগই করেন। সামান্তা জানান, সোশ্যাল মিডিয়া কিংবা শুটিং সেটে পরিচালক ও সহকর্মীরা আদর করে তাকে ‘পারভেজ’ বলেই ডাকেন।
শৈশবের স্মৃতিচারণ করে সামান্তা বলেন, ‘ছোটবেলায় মনে হতো আমার নাক বুঝি একটু বেশি বোঁচা। পরে দেখলাম আমার থেকেও আরও অনেক মেয়ের নাক বোঁচা আছে। তখন থেকে আর খারাপ লাগে না।’ এই উপলব্ধিই তাকে নিজের চেহারা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হতে সাহায্য করেছে।
নিজের স্বভাব প্রসঙ্গে সামান্তা বলেন, ‘আমি একদমই রাগী নই। এটাকে নেতিবাচক দিকও বলতে পারেন—আমার হয়তো আরেকটু রাগী হওয়া উচিত ছিল।’ তবে খুব কাছের কেউ কষ্ট দিলে তিনি তা মনে পুষে রাখেন, সরাসরি রাগ প্রকাশ করেন না। এই শান্ত স্বভাবের পেছনে পারিবারিক শিক্ষার বড় প্রভাব রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ক্যারিয়ারের শুরুতে মডেল হিসেবে কাজ করলেও সেখানে নিজের শক্ত কোনো পরিচয় খুঁজে পাচ্ছিলেন না সামান্তা। এমনকি তার মা-ও মডেলিং পেশা নিয়ে খুব একটা সন্তুষ্ট ছিলেন না। সামান্তা বলেন, ‘মডেল হিসেবে দুই-তিন বছর কাজ করার পর মনে হলো, আমাকে একজন অভিনেত্রী হিসেবেই পরিচিতি পেতে হবে। এরপর থেকেই নাটকে অভিনয় শুরু করি।’
সময় বদলেছে, বদলেছে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিও। সামান্তা বলেন, ‘এখন মা আমাকে নিয়ে অনেক গর্ব করেন। আত্মীয়-স্বজনরাও গর্ববোধ করেন। একসময় যারা আমাদের খোঁজ নিতেন না, এখন তারাই বাহবা দেন। এটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় পাওয়া।’
নিজের অভিজ্ঞতা আর উপলব্ধির কথা অকপটে ভাগ করে নিয়ে সামান্তা পারভেজ যেন বুঝিয়ে দিলেন—পর্দার আলো ঝলমলে জগতের পেছনেও আছে সংগ্রাম, আত্মবিশ্বাস আর ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা এক নারীর গল্প।



























