শুক্রবার ১৯ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:১৫, ১৮ জুন ২০২৬

প্রতিমন্ত্রীর ছেলেদের নামে ২ ইউনিয়ন

গণশুনানির কথা জানেন না সাধারণ মানুষ

গণশুনানির কথা জানেন না সাধারণ মানুষ
ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ার নবঘোষিত চারটি ইউনিয়নের নামকরণ ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত নিয়ে গণশুনানির মাধ্যমে ইউনিয়নগুলোর নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে প্রশাসনের নথিতে উল্লেখিত স্থানগুলোতে গিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। অনেক স্থানীয় বাসিন্দা জানিয়েছেন, এ ধরনের কোনো গণশুনানির কথা তাঁরা জানেন না বা শুনেননি। এ ছাড়া নতুন ইউনিয়নগুলোর নামের প্রস্তাবক হিসেবে যাঁদের নাম উঠে এসেছে, তাঁদের মধ্যে দুজন যুবদল নেতা রয়েছেন।

গত ১১ জুন বগুড়া জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি এবং নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার আটটি ইউনিয়নের প্রশাসনিক পুনর্গঠন করা হয়। এর মধ্যে শিবগঞ্জ উপজেলায় গঠিত নতুন ইউনিয়নের নাম রাখা হয়েছে ‘মীরবাড়ী ইউনিয়ন’। অন্যদিকে মোকামতলা উপজেলার নতুন তিনটি ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে ‘সীমান্ত ইউনিয়ন’, ‘দিগন্ত ইউনিয়ন’ এবং ‘স্বর্ণগ্রাম ইউনিয়ন’।

অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী এবং বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহে আলমের পৈতৃক বাসভবন ‘মীরবাড়ী’র নামে শিবগঞ্জ উপজেলার নতুন ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে ‘মীরবাড়ী’। অন্যদিকে তাঁর দুই ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত এবং মীর সাকলাইন আলম দিগন্তের নামানুসারে মোকামতলা উপজেলার নবগঠিত দুটি ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে যথাক্রমে সীমান্ত ইউনিয়ন ও দিগন্ত ইউনিয়ন।

বিষয়টি জাতীয় সংসদেও সমালোচনা হয়েছে। গত সোমবার জাতীয় সংসদে এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন জামায়াতে ইসলামীর দলীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ। পরে প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম এ বিষয়ে ব্যক্তিগত কৈফিয়ত দেন। সংসদে তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক যাচাই-বাছাই করে গণশুনানি করে নতুন নামকরণ করেছেন। সৈয়দপুর ইউনিয়ন গাবতলী ও সোনাতলা উপজেলার সীমান্তে। সীমান্তবর্তী হওয়ায় এটার নাম করা হয়েছে ‘সীমান্ত’ ইউনিয়ন। আরেকটি গাইবান্ধার কাছে, এটি অনেক দূরবর্তী হওয়ায় এটার নাম রেখেছে ‘দিগন্ত’। দেশের বিভিন্ন জায়গায় ‘সীমান্ত ও দিগন্ত’ নাম রয়েছে উল্লেখ করে শাহে আলম বলেন, ‘মিরাকেলি আমার সন্তানদের নামের সঙ্গে মিলে গেছে ঠিকই। আমাদের সন্তানের নাম হচ্ছে মীর সীমান্ত, মীর দিগন্ত। আমার যদি ইনটেনশন থাকত, তাহলে জেলা প্রশাসককে বলতাম ‘নাম রাখেন মীর সীমান্ত, না হলে মীর দিগন্ত’। কিন্তু নামের আগে তো মীর নেই।’ সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা এ সময় টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানান প্রতিমন্ত্রীকে।

স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯–এর ১১–এর (২) উপধারা (১) অনুযায়ী, ইউনিয়নের নামকরণ কোনো ব্যক্তির নামে করা যাবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারবিশেষজ্ঞ ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, ‘সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রীর নিজ বাড়ি এবং দুই ছেলের নামে নতুন ইউনিয়ন গঠনের যে বিষয়টি জাতীয় সংসদ পর্যন্ত গড়িয়েছে, তা অত্যন্ত হতাশাব্যঞ্জক ও দৃষ্টিকটু। প্রতিমন্ত্রী সংসদে বক্তব্য দিয়েছেন, নতুন ইউনিয়নের নাম অলৌকিকভাবে তাঁর দুই ছেলের নামের সঙ্গে মিলে গেছে, এটা শুনে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তাঁকে উৎসাহিত করেছেন, এটা আরও বিব্রতকর। অতীতেও সরকারের প্রভাবশালীদের পারিবারিক নামে সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামকরণের নজির আছে। আমরা অতীত থেকে শিক্ষা নিতে পারিনি।’

শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের ডিও লেটার (আধা সরকারিপত্র) পাওয়ার পর দুই উপজেলার প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন করে চারটি নতুন ইউনিয়ন গঠনের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়। নামকরণের আগে এলাকাবাসীর মতামত গ্রহণে গণশুনানির জন্য উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেনকে প্রধান করে একটি কমিটি করে দেওয়া হয়েছিল।

গণশুনানির জন্য গঠিত কমিটির সভাপতি মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, গত ১৯ মে বেলা ১টায় প্রতিমন্ত্রীর বাড়ি বেতগাড়ী গ্রামের মীরবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গণশুনানিতে শফিকুল ইসলাম নামের একজন ব্যক্তি নতুন ইউনিয়নের নাম ‘মীরবাড়ী’ করার প্রস্তাব করেন। এ ছাড়া একই দিন সকাল সাড়ে ১০টায় ময়দানহাটা ইউনিয়নের দাড়িদহে আরেকটি গণশুনানি হয়। সেখানে বিমল কুমার রায় নামের একজন ‘স্বর্ণগ্রাম’ ইউনিয়ন করার প্রস্তাব করেন। এ ছাড়া ২০ মে সৈয়দপুর ইউনিয়নের হাবিবপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং দেউলী ইউনিয়নের ভরিয়া উচ্চবিদ্যালয়ে পৃথক গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বেলাল হোসেন ও শাহিনুর ইসলাম নামের দুই ব্যক্তি ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়ন গঠনের প্রস্তাব করেন। গণশুনানি আয়োজনের ছবি বা কোনো নথি চাইলে দিতে পারেননি কমিটির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন।

বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান এর আগে বলেন, নতুন ইউনিয়নের নামকরণের প্রস্তাব এসেছে উপজেলা প্রশাসন থেকে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কিছু করণীয় নেই।

গত ২০ মে দেউলী ইউনিয়নের ভরিয়া উচ্চবিদ্যালয়ে গণশুনানি আয়োজন করে স্থানীয়দের মতামতের ভিত্তিতে ‘দিগন্ত’ ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে বলে উপজেলা প্রশাসন দাবি করেছে। 

বুধবার (১৭ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় মোকামতলা উপজেলার ভরিয়া গ্রামে গিয়ে বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নতুন ইউনিয়ন গঠনের আগে গণশুনানির বিষয় তাঁদের জানা নেই।

ভরিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও রাজমিস্ত্রি নাসির উদ্দিন বলেন, ‘এ ধরনের গণশুনানি হলে গ্রামের কেউ না কেউ জানতেন। কিন্তু আমার জানামতে, নতুন ইউনিয়ন গঠনের আগে কোনো গণশুনানিতে কাউকে ডাকা হয়নি। তবে নতুন ইউনিয়ন গঠনের পর ভরিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আনন্দমিছিল ও মিষ্টি বিতরণ হয়েছে।’ বেসরকারি একটি কোম্পানির কর্মী সজীব মিয়া বলেন, গণশুনানি হলে গ্রামের কেউ না কেউ জানতেন।

ভরিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠের পাশে মুদিদোকান চালান আফরোজা বেগম। তিনি বলেন, ইউনিয়নের নামকরণের বিষয়ে এলাকাবাসীকে নিয়ে কোনো সভা হলে তিনি জানতেন, কিন্তু এ ধরনের কোনো সভা তাঁর চোখে পড়েনি।

অবশ্য ভরিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ আলম দাবি করেন, গত ২০ মে গণশুনানির কথা বলে একটি কক্ষের চাবি নেন স্থানীয় কিছু লোক। তাঁদের সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও ছিলেন। সেখানে কী আলোচনা হয়েছে, তা জানা নেই।

উপজেলা প্রশাসনের ভাষ্যমতে, দিগন্ত ইউনিয়ন নামকরণের প্রস্তাব দেন ভরিয়া-বিহারপুর গ্রামের শাহিনুর রহমান। গ্রামে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শাহিনুর রহমান শিবগঞ্জ উপজেলার দেউলী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি। তিনি জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার মোসলেমগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয়ের কারিগরি শাখায় শিক্ষকতা করেন।

জানতে চাইলে শাহিনুর রহমান বলেন, ‘২০ মে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে গণশুনানিতে ২০-২৫ জন দলীয় নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। সেখানে দেউলী ইউনিয়ন ভেঙে গঠিত নতুন ইউনিয়নের নাম দিগন্ত রাখার প্রস্তাব করেছি। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের ছেলের নাম দিগন্ত হওয়ায় কাকতালীয়ভাবে তা নতুন ইউনিয়নের নামের সঙ্গে মিলে গেছে।’

উপজেলা প্রশাসনের নথিতে ২০ মে সৈয়দপুর ইউনিয়নের হাবিবপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে গণশুনানির ভিত্তিতে ‘সীমান্ত’ ইউনিয়ন নামকরণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বুধবার বেলা সাড়ে ১০টায় হাবিবপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন বরিয়ারহাট বাজারে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ ধরনের কোনো গণশুনানির বিষয় তাঁদের জানা নেই।

নাম প্রকাশ না করে বাজারের একাধিক দোকানি বলেন, গণশুনানি হলে বাজারের লোকজন জানতেন। কিন্তু নতুন ইউনিয়ন গঠন নিয়ে কোনো গণশুনানির কথা কারও জানা নেই। 

রহমত আলী নামের স্থানীয় একজন ব্যক্তি বলেন, ‘মন্ত্রীর ছেলের নামে ইউনিয়নের নামকরণ হবে, এখানে গণশুনানি হলেও কিছু যায় আসে না, না হলেও কিছু যায় আসে না। আর গণশুনানি হলেও সেখানে মন্ত্রীর ছেলের নামে ইউনিয়নের নামকরণের বিরোধিতা করার সাহস কারও নেই।’

হাবিবপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শাজাহান আলী বলেন, গণশুনানির জন্য ১৭ মে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা চিঠি দিয়েছিলেন। ২০ মে কলেজ মাঠে গণশুনানি হয়েছে।

‘সীমান্ত ইউনিয়ন’ নামকরণের প্রস্তাবক ইউনিয়নের কুকিবাজিতপুর গ্রামের বেলাল হোসেন। তিনি সৈয়দপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য। তিনি বলেন, গণশুনানিতে দলীয় নেতা–কর্মী ছাড়াও ভিন্ন ভিন্ন পেশার বেশ কিছু লোক ছিলেন। সেখানে জগন্নাথপুর, হাজিরবাজার, খেরুয়াপাড়াসহ বেশ কিছু নাম প্রস্তাব করা হয়। গোবিন্দগঞ্জ ও সোনাতলা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় তিনি ‘সীমান্ত’ নাম প্রস্তাব করেছিলেন।

১৯ মে শিবগঞ্জ উপজেলার বেতগাড়ী গ্রামের মীরবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গণশুনানির ভিত্তিতে ‘মীরবাড়ী’ নামে নতুন ইউনিয়ন করা হয়েছে বলে উপজেলা প্রশাসন দাবি করেছে। প্রতিমন্ত্রীর বাড়ি একই গ্রামে। সেখানকার কেউ নাম প্রকাশ করে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

মীরবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘১৯ মে বিদ্যালয় মাঠে গণশুনানি হয়েছে। তবে সেখানে কী আলোচনা হয়েছে, তা আমার জানা নেই।’

‘মীরবাড়ী ইউনিয়ন’ গঠনের প্রস্তাবক শফিকুল ইসলাম বেতগাড়ী চানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কোনো দলের পদ–পদবিতে নেই বলে দাবি করেন। শফিকুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, ‘মীরবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নয়; নতুন ইউনিয়নের নামকরণের বিষয়ে মতামত গ্রহণের জন্য কিছুদিন আগে আমাকেসহ কয়েকজনকে শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদে ডাকা হয়েছিল। মীরবাড়ী এ এলাকার ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে এ বাড়ি থেকে আটমুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এলাকার উন্নয়নে মীর পরিবারের অনেক অবদান আছে। এ কারণে মীরবাড়ী নামে নতুন ইউনিয়ন গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।’

উপজেলা প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, ১৯ মে দাড়িদহ মোমেনা বক্কর কৃষি ডিপ্লোমা কলেজ মাঠে গণশুনানির ভিত্তিতে ময়দানহাটা ইউনিয়ন ভেঙে ‘স্বর্ণগ্রাম’ নামে নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে। এ নামের প্রস্তাবক দাড়িদহ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিমল কুমার রায়।

দাড়িদহ মোমেনা বক্কর কৃষি ডিপ্লোমা কলেজের অধ্যক্ষ রেজাউল ইসলাম প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের উদ্যোগে গঠন করা শিবগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা উন্নয়ন কমিটির সদস্য। তিনি বলেন, ১৯ মে কলেজ মাঠে ২০০-২৫০ জন মানুষের উপস্থিতিতে গণশুনানি হয়েছে। সেখানে দাড়িদহ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিমল কুমার রায় ‘স্বর্ণগ্রাম’ ইউনিয়ন গঠনের প্রস্তাব করেন।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের ভাইয়ের মেয়ে ‘স্বর্ণালী’র নামের সঙ্গে মিল রেখে মোকামতলা উপজেলায় ‘স্বর্ণগ্রাম’ নামে নতুন ইউনিয়নটি গঠন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে শিক্ষক বিমল কুমার রায় মুঠোফোনে বলেন, ‘দাড়িদহ বাজারে বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কার্যালয়ে কয়েকজন মিলে প্রায়ই আড্ডা দিই। সেখানে নতুন ইউনিয়নের নামকরণের প্রসঙ্গ উঠলে স্বর্ণগ্রাম নামে ইউনিয়ন গঠনের প্রস্তাব করি। সেটা কোনো গণশুনানি ছিল না।’ তিনি বলেন, এলাকায় স্বর্ণগ্রাম ফাউন্ডেশনের নানা কার্যক্রমে মুগ্ধ হয়েছেন। এ কারণে সংগঠনের নামে নতুন ইউনিয়ন গঠনের জন্য মৌখিক প্রস্তাব করেছিলেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মোকামতলা উপজেলায় ময়দানহাটা ইউনিয়নের দাড়িদহ এলাকার একজন স্কুলশিক্ষক বলেন, দাড়িদহ অনেক পুরোনো বন্দর। এখানে পুরোনো বাজার, বন্দর ছাড়াও ৮-১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে। এ কারণে ময়দানহাটা ইউনিয়ন ভেঙে নতুন ইউনিয়নের নাম ‘দাড়িদহ’ নামকরণের দাবি ছিল এলাকাবাসীর।

ময়দানহাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারমান আবু জাফর মন্ডল বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘স্বর্ণগ্রাম’ নামে কোনো গ্রাম নেই, মৌজা নেই। কোনো জায়গার নামও স্বর্ণগ্রাম নেই। অথচ গণশুনানি না করেই নিজেদের খেয়ালখুশিমতো স্বর্ণগ্রাম নামে নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি ছিল নতুন ইউনিয়নের নামকরণ হোক দাড়িদহ নামে। কিন্তু তা করা হয়নি।

সূত্র: প্রথম আলো

জনপ্রিয়