বুধবার ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫:৫২, ২৬ আগস্ট ২০২৬

বম্বে সুইটসসহ ১০ পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ

বম্বে সুইটসসহ ১০ পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ
ছবি: বিএসটিআই

ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় বাংলাদেশ মান (বিডিএস) অনুযায়ী নির্ধারিত মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে পারেনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ১০টি পণ্য। এসব পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কেন তাদের দেওয়া লাইসেন্স বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিএসটিআই। সংস্থাটি ভোক্তাদের নিম্নমানের হিসেবে চিহ্নিত এসব পণ্য না কেনার পরামর্শ দিয়েছে।

বিএসটিআইয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিয়মিত সার্ভিল্যান্স কার্যক্রমের আওতায় সম্প্রতি বাজার থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পণ্য সংগ্রহ করে নিজস্ব ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। এতে অধিকাংশ পণ্যের মান নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী পাওয়া গেলেও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ঘি, বাটার অয়েল ও মসলা পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়।

পরীক্ষায় বাঘাবাড়ি ব্র্যান্ডের ঘিতে দুধের ফ্যাট বা প্রকৃত ‘মিল্ক ফ্যাট’ পাওয়া যায়নি। বিএসটিআই জানিয়েছে, পাম অলিন ও বনস্পতি ব্যবহার করে পণ্যটি ‘ঘি’ হিসেবে বাজারজাত করা হচ্ছিল।

অন্যদিকে বম্বে সুইটস অ্যান্ড কোং লিমিটেডের উৎপাদিত পাঁচ ধরনের মসলায় নির্ধারিত সীমার চেয়ে মোট অ্যাশ ও লবণের পরিমাণ বেশি পাওয়া গেছে। পরীক্ষায় অকৃতকার্য এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে—কারী পাউডার হাঁসের মাংসের মসলা (ব্যাচ নং ১৪১২২৪), তেহারি মসলা (ব্যাচ নং ১৪০২২৬), কালা ভুনা মসলা (ব্যাচ নং ২৬০৯২৭), গরুর মাংসের মসলা এবং মাছের মসলা।

এ ছাড়া নিম্নমানের ঘি ও বাটার অয়েলের তালিকায় রয়েছে বাঘাবাড়ি প্রিমিয়াম ঘি কোম্পানির ‘বাঘাবাড়ি’ ব্র্যান্ডের ঘি, কিশোরগঞ্জ ফুড প্রোডাক্টসের ‘অরুন বাঘাবাড়ী’ ব্র্যান্ডের ঘি, মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্টের ‘নিউ রাঁধুনী’ ও ‘সিটি’ ব্র্যান্ডের ঘি এবং এলডার্স ফুড প্রোডাক্টস অ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজের ‘এলডার্স’ ব্র্যান্ডের বাটার অয়েল।

বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় এসব ঘি ও বাটার অয়েলের বিভিন্ন মানদণ্ড নির্ধারিত সীমার বাইরে পাওয়া যায়। পরীক্ষার আওতায় রিফ্র্যাক্টিভ ইনডেক্স, আয়োডিন ভ্যালু, স্যাপোনিফিকেশন ভ্যালু ও পলেন্সকে ভ্যালুসহ বিভিন্ন প্যারামিটার যাচাই করা হয়।

বিএসটিআই মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জাতীয় মান অনুযায়ী পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা প্রতিটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব। কোনো প্রতিষ্ঠান এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে বিএসটিআই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

তিনি আরও বলেন, পণ্যের মান সনদ দেওয়ার পাশাপাশি নকল ও ভেজাল পণ্য প্রতিরোধে সার্ভিল্যান্স কার্যক্রমের মাধ্যমে বিএসটিআইয়ের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

পণ্য কেনার সময় বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন ও লাইসেন্স নম্বর যাচাই করার পাশাপাশি উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং পণ্যের উপাদানসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দেখে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

কোনো পণ্যের মান, ভেজাল, প্রতারণা কিংবা বিএসটিআইয়ের মানচিহ্নের অপব্যবহার নিয়ে অভিযোগ থাকলে ১৬১১৯ নম্বরে বিএসটিআইয়ের হটলাইনে অথবা [email protected] ই-মেইলে জানানোর জন্য ভোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

জনপ্রিয়