বুধবার ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩

গোবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৫:৩০, ২৬ আগস্ট ২০২৬

গোবিপ্রবিতে যুগলদের আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ, নজরদারি বাড়ানোর দাবি

গোবিপ্রবিতে যুগলদের আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ, নজরদারি বাড়ানোর দাবি
ছবি: প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে যুগলদের আপত্তিকর আচরণ ও অনাকাঙ্ক্ষিত মেলামেশার অভিযোগ উঠেছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অস্বস্তি ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ক্যাম্পাসের পরিবেশ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকপাড়, কফি হাউস, মন্দিরসংলগ্ন এলাকা, কেন্দ্রীয় মাঠের বসার বেঞ্চসহ বিভিন্ন স্থানে প্রায়ই যুগলদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখা যায়। বিশেষ করে রাতের দিকে এসব ঘটনা বেশি ঘটে বলে জানিয়েছেন তারা।

শিক্ষার্থীরা জানান, রাতে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকায় মানুষের চলাচল তুলনামূলক কম থাকায় কিছু ব্যক্তি নির্জনতার সুযোগ নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বহিরাগত তরুণ-তরুণীদেরও ক্যাম্পাসে অবাধে প্রবেশ ও অবস্থানের অভিযোগ রয়েছে।

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন আরিফ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রেম-ভালোবাসা স্বাভাবিক বিষয়। তবে কোনো সম্পর্কের কারণে যখন এমন আচরণ প্রকাশ্যে আসে, যা অন্যদের জন্য অস্বস্তিকর বা দৃষ্টিকটু, তখন বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। আমি নিজেও কিছুদিন আগে ক্যাম্পাসে একটি সমলিঙ্গের যুগলকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখেছি। এ ধরনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের আরও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন। ক্যাম্পাসের পরিবেশ সুন্দর ও সুশৃঙ্খল রাখতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে–এটাই প্রত্যাশা।”

অর্থনীতি বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মারজাহান আক্তার শিমু বলেন, “এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অনেক সময় বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে দেখা যায় এবং তাদের কেউ কেউ অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। তাই গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নিয়মিত নিরাপত্তা টহল ও নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. আহসান সৌরভ বলেন, “আনসার সদস্যদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, ক্যাম্পাসে কোনো শিক্ষার্থী কিংবা বহিরাগতকে অসংগতিপূর্ণ অবস্থায় বা কোনো যুগলকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখলে বিষয়টি প্রক্টরিয়াল বডিকে জানাতে হবে। প্রতিদিন রাত ৯টার দিকে ক্যাম্পাসে টহল দেওয়া হয়। এর আগেও যেসব যুগলকে আপত্তিকর অবস্থায় পাওয়া গেছে, তাদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে এবং সতর্ক করা হয়েছে। একই ধরনের ঘটনা পুনরায় ঘটলে অভিভাবকদের ডাকা হবে।”

শিক্ষার্থীরা বলছেন, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বহিরাগতদের প্রবেশের বিষয়েও প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন নির্জন এলাকায় পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

জনপ্রিয়