বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০০:২৩, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৩৮ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ

সহকারী কর কমিশনার জান্নাতুল ফেরদৌসের ৮ বছর পদোন্নতি স্থগিত

সহকারী কর কমিশনার জান্নাতুল ফেরদৌসের ৮ বছর পদোন্নতি স্থগিত
ছবি: সংগৃহীত

শৃঙ্খলা ভঙ্গ, রাজস্ব ক্ষতি ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দুই কর কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উপকর কমিশনার লিংকন রায়কে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। আর সহকারী কর কমিশনার জান্নাতুল ফেরদৌস মিতুর পদোন্নতি আট বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। 

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বর্তমানে উৎসে কর ব্যবস্থাপনা ইউনিটে সাময়িক বরখাস্ত থাকা উপকর কমিশনার লিংকন রায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

লিংকন রায় কর অঞ্চল-৫, ঢাকার সার্কেল-৯০ (কোম্পানি)-এ কর্মরত থাকাকালে একটি নিষ্পত্তি হওয়া আয়কর মামলায় নতুন করে আদেশপত্র ও কর নির্ধারণ আদেশ তৈরি করেন। এতে সরকারের ১৪৬ কোটি ৫৭ লাখ ৪৬ হাজার ৫৫৩ টাকা রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর আওতায় তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করা হয়। ব্যক্তিগত শুনানি ও তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হয়।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিসের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতির সম্মতিক্রমে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, এনবিআরে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে থাকা সহকারী কর কমিশনার জান্নাতুল ফেরদৌস মিতুর বিরুদ্ধেও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কর অঞ্চল-৫, ঢাকার সার্কেল-৯৩-এ কর্মরত থাকাকালে করদাতা সালাহউদ্দিন আহমেদের কাছ থেকে ৩৮ লাখ টাকা নগদ গ্রহণ করে তার আয়কর নথির অধিকাংশ রেকর্ড পরিবর্তন করেন জান্নাতুল ফেরদৌস মিতু। পরে পুরনো রেকর্ড করদাতার মনোনীত প্রতিনিধির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘দুর্নীতি পরায়ণতা’র অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্তে ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হলেও ‘দুর্নীতি পরায়ণতা’র অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি।

পরে সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে অসদাচরণের অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। শাস্তি হিসেবে তার পদোন্নতি আট বছরের জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

জনপ্রিয়