সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৫৮, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাকিস্তানের অনুমতি না মেলায় আটকে গেল রূপপুরের জ্বালানি

পাকিস্তানের অনুমতি না মেলায় আটকে গেল রূপপুরের জ্বালানি
ছবি: সংগৃহীত

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে জ্বালানি বহনকারী বিশেষ কার্গো বিমান পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশে আসতে পারেনি। বৃহস্পতিবার ফ্লাইটটি বাংলাদেশে আসার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করা হয়।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জটিলতা কাটিয়ে আগামী ১ অক্টোবর জ্বালানি দেশে আনার নতুন পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণসহ বিভিন্ন পরিস্থিতিতে এই সময়সূচি আবারও পরিবর্তিত হতে পারে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পারমাণবিক জ্বালানি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় বিশেষ কার্গো বিমানে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তা পরিবহন করা হয়। বিমানটি যেসব দেশের আকাশসীমা অতিক্রম করে, সেসব দেশের আগাম অনুমতিও প্রয়োজন হয়। রাশিয়া ও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবারের ফ্লাইটের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হলেও পাকিস্তানের অনুমতি না পাওয়ায় শেষ মুহূর্তে ফ্লাইটটি বাতিল করতে হয়।

সূত্র অনুযায়ী, কার্গো বিমানটির কাজাখস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারত হয়ে বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে পাকিস্তান কী কারণে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলছে, বাংলাদেশ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত বা সংশ্লিষ্ট চিঠি নির্ধারিত সময়ে না পৌঁছালেও এ ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি কিংবা অন্য কোনো কারণেও অনুমতি আটকে থাকতে পারে।

বিকল্প হিসেবে চীন ও মিয়ানমার হয়ে অথবা অন্য কোনো রুট ব্যবহার করে জ্বালানি দেশে আনার চেষ্টা করা হতে পারে বলে জানিয়েছে সূত্র।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ডিসেম্বরের মধ্যে সাতটি ফ্লাইটে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুই ইউনিটের জন্য মোট ১৬৩টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি দেশে আসার কথা রয়েছে। এর মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিটের পাশাপাশি প্রথম ইউনিটের জন্যও প্রয়োজনীয় কিছু জ্বালানি থাকবে।

রূপপুরের প্রথম ইউনিটে এরই মধ্যে জ্বালানি লোড করা হয়েছে। তবে প্রায় দেড় বছর পর ওই জ্বালানির এক-চতুর্থাংশ পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে। এ কারণে প্রথম ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি আগাম আনা হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম তিন বছর রাশিয়া জ্বালানি সরবরাহ করবে। এরপর দুই বছর পরপর নির্দিষ্ট হারে জ্বালানি পরিবর্তন করতে হবে এবং তখন বাংলাদেশকে তা আমদানি করতে হবে।

নিরাপত্তাঝুঁকি এড়াতে বিশেষ উড়োজাহাজে জ্বালানি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়। পরে সেনাবাহিনী ও সংশ্লিষ্টদের কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে তা পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নেওয়া হয়।

রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিত দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরে সমান সক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। দুই ইউনিটের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং শেষ হলেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে উৎপাদনে যাওয়ার সময় পিছিয়েছে।

চলতি মাসে রূপপুর থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর পরিকল্পনা ছিল। তবে সেফটি ভালভে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় নির্ধারিত সময়ে উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়নি। ত্রুটি মেরামতের জন্য রাশিয়া থেকে বিশেষজ্ঞ দল এসেছে এবং প্রয়োজনীয় কিছু যন্ত্রাংশও আনা হয়েছে। তবে মেরামতের কাজ শেষ করে রূপপুরের বিদ্যুৎ কবে নাগাদ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
 

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

জনপ্রিয়