শনিবার ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ০০:০৩, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬

চট্টগ্রামকে হারিয়ে বিপিএলে চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স

চট্টগ্রামকে হারিয়ে বিপিএলে চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স
ছবি: সংগৃহীত

শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে কোনো উত্তেজনার সুযোগই দেয়নি রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একচ্ছত্র আধিপত্য দেখিয়ে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ৬৩ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিপিএল চ্যাম্পিয়ন হলো নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে রাজশাহীকে ব্যাট করতে পাঠান চট্টগ্রামের অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান। ব্যাটিংয়ে নেমে উড়ন্ত সূচনা পায় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।

ওপেনিং জুটিতে তানজিদ হাসান তামিম ও সাহিবজাদা ফারহান যোগ করেন ৮৩ রান। ৩০ বলে ৩০ রান করে ফারহান ফিরলেও অপর প্রান্তে দৃঢ়তা ও আগ্রাসনের মিশেলে ব্যাটিং করতে থাকেন তানজিদ। দ্বিতীয় উইকেটে কেন উইলিয়ামসনকে নিয়ে ৪৭ রানের জুটি গড়েন তিনি। উইলিয়ামসন ১৫ বলে ২৪ রান করে আউট হন।

ফিফটি পূরণের পর আরও বিধ্বংসী হয়ে ওঠেন তানজিদ। শেষ পর্যন্ত ৬২ বলে ১০০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন এই বাঁহাতি ওপেনার। ছয়টি চার ও সাতটি ছক্কায় সাজানো এই সেঞ্চুরি ছিল চলতি আসরের চতুর্থ শতক। একই সঙ্গে বিপিএল ফাইনালের ইতিহাসে তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েন তানজিদ। এর আগে ফাইনালে শতক করেছিলেন কেবল ক্রিস গেইল ও তামিম ইকবাল।

শেষ দিকে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ১১ রান, আর জিমি নিশাম ৭ রানে অপরাজিত থাকেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে রাজশাহীর সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৭৪ রান। চট্টগ্রামের পক্ষে শরিফুল ইসলাম ও মুকিদুল ইসলাম দুটি করে উইকেট নেন।

১৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় চট্টগ্রাম রয়্যালস। দলীয় ১৮ রানেই সাজঘরে ফেরেন দুই ওপেনার। মোহাম্মদ নাঈম শেখ ১০ বলে ৯ রান করেন, আর মাহমুদুল হাসান জয় কোনো রান না করেই আউট হন। হাসান নেওয়াজ করেন ৭ বলে ১১ রান।

চতুর্থ উইকেটে উইকেটরক্ষক ব্যাটার জাহিদুজ্জামানকে নিয়ে কিছুক্ষণ প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন মির্জা বেগ। তবে ধীরগতির ব্যাটিংয়ের কারণে ম্যাচ ক্রমেই চট্টগ্রামের নাগালের বাইরে চলে যায়। জাহিদুজ্জামান ১৩ বলে ১১ রান করে আউট হন এবং মির্জা বেগ ৩৬ বলে ৩৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন।

শেষদিকে আসিফ আলী ১৬ বলে ২১ রান করলেও ম্যাচে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেননি। আমির জামাল করেন ৮ রান। শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রামের ইনিংস থামে ১১১ রানে।

রাজশাহীর হয়ে বাঁহাতি পেসার বিনুরা ফার্নান্দো ছিলেন সবচেয়ে সফল বোলার। ৩ ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়ে চারটি উইকেট নেন তিনি। হাসান মুরাদ তিনটি, জিমি নিশাম দুটি এবং আব্দুল গাফফার সাকলাইন একটি উইকেট শিকার করেন।

এই জয়ের মধ্য দিয়ে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স জেতে তাদের দ্বিতীয় বিপিএল শিরোপা। এর আগে ২০১৯–২০ মৌসুমে ‘রাজশাহী রয়্যালস’ নামে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। বিপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ চারবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। ঢাকা তিনবার, বরিশাল ও রাজশাহী দু’বার করে এবং একবার শিরোপা জিতেছে রংপুর রাইডার্স।

সর্বশেষ