শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪:৫৩, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কারাবন্দিদের জন্য চালু হচ্ছে ভিডিও কল সুবিধা

কারাবন্দিদের জন্য চালু হচ্ছে ভিডিও কল সুবিধা
গ্রাফিক্স

কারাগারের চার দেয়ালের বন্দিজীবনে স্বজনদের সরাসরি দেখার আকাঙ্ক্ষা পূরণে ভিডিও কল সুবিধা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে কারা অধিদপ্তর। ইতোমধ্যে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলট প্রকল্প) এ সেবা চালু করা হয়েছে। শিগগিরই দেশের সব কারাগারে এ সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে কয়েদি ও হাজতিরা সপ্তাহে একবার ১০ মিনিট করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলতে পারবেন।

ঢাকা কারা অধিদপ্তরের জেলার (লজিস্টিক অ্যান্ড মিডিয়া) মো. মাসুদ হাসান জুয়েল জানান, সারা দেশের কারাগারে পর্যায়ক্রমে ভিডিও কল সুবিধা চালু করা হবে এবং এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় গোপনীয়তা নিশ্চিত করা হবে।

কারা অধিদপ্তর জানিয়েছে, বন্দিদের সংশোধন ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কারাগারে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ধর্মীয় শিক্ষা, কাউন্সেলিং ও মানসিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এছাড়া বন্দিদের কর্মমুখী ও দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এ সাবান উৎপাদন কার্যক্রম চলছে এবং উৎপাদিত সাবান বন্দি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সরবরাহ করা হচ্ছে।

বন্দিদের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারা হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ৫৫ জন ডিপ্লোমা নার্স নিয়োগের সুপারিশ পাওয়া গেছে, যা বাস্তবায়িত হলে স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত হবে।

নিরাপদ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এ মিনারেল ড্রিংকিং ওয়াটার প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি কারাগারের নিরাপত্তা ও সেবার মান উন্নয়নে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ফারুক আহমেদ জানান, বন্দিদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মতভাবে রুটি প্রস্তুতের লক্ষ্যে চীন থেকে আমদানিকৃত আধুনিক রুটি তৈরির মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। এতে অল্প সময়ে অধিকসংখ্যক বন্দির জন্য একই মানের খাদ্য প্রস্তুত করা সম্ভব হচ্ছে।

কারা অধিদপ্তর আরও জানায়, কারাগারে মাদক প্রবেশ ও মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। মাদক শনাক্তকরণে আধুনিক ড্রাগ টেস্টিং মেশিন সংগ্রহ করা হয়েছে।

এছাড়া পরিবেশবান্ধব কারা ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে বিভিন্ন কারাগারে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সিলেট, কিশোরগঞ্জ ও খুলনার নতুন কারাগারে প্রায় ১৮ হাজার গাছ রোপণ করা হয়েছে।

কারা কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, প্রযুক্তিনির্ভর ও মানবিক এসব উদ্যোগের মাধ্যমে কারাগার সম্পর্কে মানুষের ইতিবাচক ধারণা তৈরি হবে এবং বন্দিদের পুনর্বাসন ও সংশোধন কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।

জনপ্রিয়