এস এম জিলানীকে ঘিরে মন্ত্রী হওয়ার আলোচনা, এলাকায় ব্যাপক আনন্দ
স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী মন্ত্রী হতে পারেন—এমন গুঞ্জনে তার নির্বাচনী এলাকা জুড়ে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। আসনের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মুখে এখন একটাই আলোচনা—জিলানী মন্ত্রী হচ্ছেন কি না।
এলাকাবাসী বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান-কে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে তারা সারাজীবন তাকে মনে রাখবেন।
গোপালগঞ্জ দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আসনগুলোর একটি। দীর্ঘদিন ধরে এটি আওয়ামী লীগ-এর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। ১৯৯১ সাল থেকে টানা এ আসনে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো দলের প্রার্থী বিজয়ী হননি। দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা বারবার এখান থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।
দীর্ঘ ৩৪ বছরের সেই ধারাবাহিকতা ভেঙে এবার বিপুল ভোটে জয় পান বিএনপির প্রার্থী এস এম জিলানী। এতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছেও বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
নির্বাচনকালীন সময়ে তিনি প্রতিটি গ্রাম ও বাড়িতে গিয়ে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন এবং তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি তুলে ধরেন। এ সময় তিনি ভোটারদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তুলতে সক্ষম হন।
নির্বাচিত হওয়ার পরও তিনি থেমে থাকেননি। আবারও গ্রাম, পাড়া ও মহল্লায় গিয়ে বলেন—
তিনি শুধু একটি দলের নয়, পুরো আসনের এমপি; সবার সেবক হিসেবে কাজ করবেন। অন্যায়-অত্যাচারের সঙ্গে যুক্তদের তিনি প্রশ্রয় দেবেন না এবং সবাইকে নিয়ে উন্নয়নের পথে এগোতে চান।
জিলানী জানান, নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো তিনি অক্ষরে অক্ষরে পালন করবেন এবং সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়নমূলক কাজ করতে চান।
সম্প্রতি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর চাচা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কবির হোসেন-এর জানাজায় উপস্থিত হয়ে তিনি রাজনৈতিক সৌজন্যের এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন বলে স্থানীয়রা মনে করেন। এতে তার উদার মানসিকতার প্রশংসা করেন অনেকেই।
গোপালগঞ্জ জেলার (গোপালগঞ্জ) মানুষ মনে করেন, জিলানী মন্ত্রী হলে এ অঞ্চলের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। সাধারণ মানুষ সহজেই তার কাছে গিয়ে নিজেদের সমস্যা তুলে ধরতে পারবেন।
এলাকাবাসীর ধারণা, তিনি সাংগঠনিকভাবে দক্ষ নেতা। ফলে মন্ত্রী হলে তার নেতৃত্বে গোপালগঞ্জসহ আশপাশের আসনগুলোতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
স্থানীয়দের মতে, দলের আন্দোলন-সংগ্রামে জিলানীর দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও অবদান রয়েছে। তাই দলীয় হাইকমান্ড তার প্রতি যথাযথ মূল্যায়ন করবেন এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিতে পারেন।
গোপালগঞ্জ-৩ আসনের বিজয়ী সংসদ সদস্য এস এম জিলানী বলেন, কিছুক্ষণ আগে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্যারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময় করেছি। আশা করি তিনি নিরাশ করবেন না। তার প্রতি আমাদের আস্থা রয়েছে।



























