বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩:১৪, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

টেন্ডার নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের মারামারি, আহত ৫

টেন্ডার নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের মারামারি, আহত ৫
ছবি: সংগৃহীত

চাঁদপুরের মতলব উত্তরের ছেঙ্গারচর পৌরসভায় হাট-বাজার ইজারার টেন্ডার জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ছেঙ্গারচর পৌরসভায় গরুর বাজার, মাছ বাজার ও পাঁচটি সিএনজি স্ট্যান্ড ইজারার শিডিউল জমা দেওয়ার সময় এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ উঠেছে, যুবদল নেতা আবু সাঈদ বেপারী ও পৌর যুবদলের আহ্বায়ক উজ্জ্বল ফরাজী তাদের সমর্থকদের নিয়ে পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি নান্নু প্রধানসহ অন্যদের শিডিউল জমা দিতে বাধা দেন।

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে বিএনপি নেতা বদরুজ্জামান (৫৫), সায়েম (২০) ও সফিউল্লাহর (৩৫) নাম জানা গেছে। বাকিদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

ঘটনা প্রসঙ্গে যুবদল নেতা আবু সাঈদ বেপারী বলেন, ‘শিডিউল জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময় ছিল দুপুর ১টা পর্যন্ত। সময় পার হওয়ার পর কয়েকজন শিডিউল জমা দিতে আসলে আমরা বাধা দিই। এ সময় তারা আমাদের কর্মী সফিউল্লাহকে মারধর করে।’

অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল হক সরকার ও পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি নান্নু প্রধান অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনের কারসাজিতে কেবল এক পক্ষের শিডিউল গ্রহণ করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী টেন্ডার বাক্স উপজেলা কার্যালয়, থানা ও পৌরসভায় রাখার কথা থাকলেও তা কেবল পৌরসভায় রাখা হয়েছিল।

তারা আরও অভিযোগ করেন, শিডিউল জমা দিতে গেলে আবু সাঈদ ও উজ্জ্বল ফরাজীর অনুসারীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে বিএনপি নেতা বদরুজ্জামান মাথায় রক্তাক্ত জখমসহ কয়েকজন আহত হন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তারা বর্তমান ইজারা প্রক্রিয়া বাতিল করে পুনরায় বিজ্ঞপ্তির দাবি জানান।

মতলব উত্তর থানার তদন্ত কর্মকর্তা প্রদীপ মণ্ডল জানান, ‘শিডিউল জমা দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনী তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি; অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, ‘এক পক্ষ অন্য পক্ষকে বাধা দেওয়ার বিষয়টি জেনেছি। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উপস্থিত ছিল। সংক্ষুব্ধ পক্ষটি নির্ধারিত সময়ের মাত্র পাঁচ মিনিট আগে এসেছিল। কেউ শিডিউল জমা দিতে না পারলে তাদের ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, ছেঙ্গারচর পৌরসভার হাট-বাজার ইজারার সাতটি স্থানের বিপরীতে মোট সাতটি শিডিউল জমা পড়েছে।