মব সৃষ্টি করে পুলিশে দেওয়া সেই পঙ্গু আ.লীগ নেতা মারা গেছেন
বগুড়া থেকে গ্রেফতার হওয়া আওয়ামী লীগ নেতা শাহনূর আলম শান্ত (৬০) কারাবন্দি অবস্থায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়া জেলা কারাগারের জেলার নুরুল মুবীন।
কারা সূত্রে জানা যায়, গত ৪ জানুয়ারি বগুড়া শহরের নারুলী কৃষি ফার্ম এলাকার সামনে ‘মব’ সৃষ্টির পর শাহনূর আলম শান্তকে আটক করে মারধর করা হয়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে সদর থানায় নিয়ে যায়। একই দিন তাকে বগুড়া জেলা মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক সুরাইয়া জেরিন রনির দায়ের করা নাশকতা ও হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে বগুড়া কারাগারে থাকা পাঁচ আওয়ামী লীগ মারা গেছেন। আগে এ কারাগারে থাকা অবস্থায় মৃত নেতারা হলেন- গাবতলীর দক্ষিণপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক ওরফে ভুট্টু (৫২), গাবতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আবদুল মতিন মিঠু (৬৫), জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদত আলম ঝুনু (৫৭), শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আবদুল লতিফ (৬৭) ও বগুড়া পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম রতন (৫৮)।
বগুড়া জেলা কারাগার, পরিবার ও মামলা সূত্র জানায়, শাহনূর আলম শান্ত বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার হাটশেরপুর ইউনিয়নের নিজবলাইল গ্রামের মৃত সেকেন্দার আলী প্রামানিকের ছেলে। তিনি হাটশেরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। গত ২০১৮ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি ডান পা হারান এবং পায়ের মধ্যে রড ঢোকানো আছে। কৃত্রিম পায়ে চলাফেরা করতেন। গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গ্রেফতার ও ‘মব’ শুরু হলে আওয়ামী লীগ নেতা শান্ত আত্মগোপন করেন।
গত ৪ জানুয়ারি দুপুর ১২টার দিকে তিনি গোপনে বগুড়া শহরের নারুলী কৃষি ফার্মের কাছে বিউটি পার্লারে তার স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে আসেন। এ সময় সারিয়াকান্দির বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে দেখতে পেয়ে আটক করে মারধর করেন। সদর থানা পুলিশ খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ওই দিনই তাকে বগুড়া জেলা মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক সুরাইয়া জেরিন রনির সদর থানায় করা নাশকতা ও হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
বগুড়া জেলা কারাগারের জেলার নুরুল মুবীন জানান, গত ১৭ জানুয়ারি হাজতি শাহনূর আলম শান্তকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মেঝেতে হাতকড়া পরিহিত পঙ্গু শান্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাত ১০টার দিকে মারা যান। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
শাহনূর আলম শান্ত’র ছোট ভাই ফারুক মিয়া জানান, তার একমাত্র ভাতিজি বগুড়া বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। নিরপরাধ শান্ত’র মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকার মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লাশ গ্রহণের জন্য যোগাযোগ করা হচ্ছে। এ ছাড়া সারিয়াকান্দির নিজবলাইল গ্রামের বাড়িতে তাকে দাফনের প্রস্তুতি চলছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার এসআই অমিত হাসান মাহমুদ জানান, আওয়ামী লীগ নেতা শাহনূর আলম শান্ত’র এক পা কাটা ও পায়ে রড ঢুকানো আছে। তিনি গত ৪ জানুয়ারি শহরের নারুলী কষি ফার্মের সামনে বিউটি পার্লারে স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। নিজ এলাকার লোকজন তাকে চিনতে পেরে আটক করে। এরপর তাকে মারপিট করতে থাকে। তখন ‘৯৯৯’ নম্বরে ফোন পেয়ে কর্মকর্তারা তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে তাকে জেলা মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক সুরাইয়া জেরিন রনি নাশকতা ও হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে হাজতে পাঠানো হয়েছিল।



























