মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:৪৬, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারে বিল এসেছে ৫০৬ কোটি টাকা

২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারে বিল এসেছে ৫০৬ কোটি টাকা
ছবি: সংগৃহীত

মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার। অথচ এক মাসের বিদ্যুৎ বিল দেখে চোখ কপালে ওঠার জোগাড় এক গ্রাহকের। বিলের অঙ্ক গিয়ে ঠেকেছে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকায়। পরে বিদ্যুৎ বিভাগের ভুল ধরা পড়লে সংশোধন করে বিল নির্ধারণ করা হয় মাত্র ১ হাজার ৯৬৩ টাকা। শেষ পর্যন্ত সেই সংশোধিত বিলই পরিশোধ করেছেন গ্রাহক।

সম্প্রতি এমন অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামে। ভুক্তভোগী মোছা. আলেয়া খাতুন ওই গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী। তার নামে সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসের বিলটি ইস্যু করে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিস।

বিলের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ সেপ্টেম্বর মিটারের বর্তমান রিডিং ছিল ৩৯৫। এর আগে ৮ আগস্ট মিটারের রিডিং ছিল ১৬০। অর্থাৎ এক মাসে ওই গ্রাহকের বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে ২৩৫ ইউনিট।

কিন্তু এই ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে বিলের ডিমান্ড চার্জ দেখানো হয়েছে ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা। এর সঙ্গে ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা ভ্যাট এবং ১০ টাকা মিটার ভাড়া যোগ করা হয়। সব মিলিয়ে বিলের মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা।

এমনকি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ না করলে বিলম্ব মাশুলসহ বিলের পরিমাণ দাঁড়ানোর কথা ছিল ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা। অথচ ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রকৃত বিল ছিল ১ হাজার ৯৬৩ টাকা। বিলম্ব মাশুল যোগ হলেও সেই বিল হওয়ার কথা ২ হাজার ৫৬ টাকা।

গত ১০ সেপ্টেম্বর বিলটি ইস্যু করা হয়। বিল পরিশোধের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল ২৯ সেপ্টেম্বর। সেখানে গ্রাহকের শ্রেণি হিসেবে উল্লেখ করা হয় ‘এলটি-এ (আবাসিক)’।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী মোছা. আলেয়া খাতুন বলেন, ‘এটা শুধু ভূতুড়ে বিল নয়, আজগুবিও। বিদ্যুৎ বিভাগের চরম গাফিলতির কারণে আমাকে দুশ্চিন্তা ও ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে।’

তিনি জানান, পরে মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আড়পাড়া জোনাল অফিসে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে ভুল সংশোধন করে ১ হাজার ৯৬৩ টাকার নতুন বিল দেওয়া হলে তিনি সেটি পরিশোধ করেন।

মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিম বলেন, কম্পিউটারে বিল তৈরির সময় কর্মীদের টাইপিং ভুলের কারণে এমন অস্বাভাবিক বিল তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর ভুক্তভোগী নারীকে ডেকে এনে বিলটি সংশোধন করে দেওয়া হয়েছে। সংশোধিত বিলের ১ হাজার ৯৬৩ টাকা তিনি পরিশোধ করেছেন।

মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. মহিতুল ইসলাম বলেন, ‘টাইপিং ভুলের কারণে এমনটি হয়েছিল। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জনপ্রিয়