‘আসিফ নজরুলের চরিত্র মোশতাকের মতো মনে হয়’
কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের অন্যতম ‘হোতা’ খন্দকার মোশতাক আহমেদের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর ভাষ্য, আসিফ নজরুলের চরিত্র তাঁর কাছে খন্দকার মোশতাকের চরিত্রের মতোই মনে হয়।
সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ফজলুর রহমান।
আসিফ নজরুল প্রসঙ্গে নিজের আগের ধারণার কথা তুলে ধরে ফজলুর রহমান বলেন, ‘অনেক সময় চেনা যায় না এরা কারা। ড. আসিফ নজরুল বয়সে আমার ছোট। যেদিন আইএসসি পাস করছি, সেদিন উনার জন্ম হয়েছে—১৯৬৬ সালে।’
একসময় আসিফ নজরুলকে অত্যন্ত শ্রদ্ধার চোখে দেখতেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করতাম, এই লোকটা জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে ঢাকা ইউনিভার্সিটির একজন প্রফেসর। এখানে এসে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আসামি হয়ে গেলেন। খুব রেসপেক্ট করতাম। কথাবার্তা যখন আমাদের মিটিংয়ে বলতেন, মনে হতো যেন একজন ফেরেশতা কথা বলতেছেন।’
তবে পরবর্তী সময়ে তাঁর সেই ধারণা বদলে যায় বলে জানান ফজলুর রহমান। আসিফ নজরুলের বাড়ি কুমিল্লা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই লোকটার বাড়ি কুমিল্লা। এত শিক্ষিত মানুষ। এই লোকটার চরিত্র কেন এমন—আমি মিলায়ে দেখি, এই লোকটার কুমিল্লার পাশের বাড়ির আরেকজন লোক আছে, দাউদকান্দির। তার নাম খন্দকার মোশতাক। আমার কাছে মনে হয়, খন্দকার মোশতাকের সঙ্গে তার কোনো আত্মীয়তা আছে।’
খন্দকার মোশতাকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘খন্দকার মোশতাক বঙ্গবন্ধুর বাবা যখন মারা গেছেন, তার চেয়ে কান্না আর কেউ বেশি কান্দে নাই। কিন্তু হত্যাটা কিন্তু সেই করছে।’
আসিফ নজরুলের বিষয়ে নিজের মূল্যায়ন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ফজলুর রহমান বলেন, ‘আসিফ নজরুলের ক্যারেক্টারটা আমার কাছে কিন্তু এই রকম মনে হয়। কাজেই আপনি যাদের খুব শিক্ষিত, ভালো মানুষ মনে করতেছেন, তাদের অন্তরে যে বাংলাদেশ রাখা যাবে না, এই দেশটাকে প্রগতির পথে, মুক্তির পথে রাখা যাবে না—এইটা তারা ১৮ মাসের শাসনে নিজেদের কর্মকাণ্ড দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করছে।’
সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্পর্কেও নিজের অবস্থানের পরিবর্তনের কথা জানান ফজলুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘নোবেল লরিয়েট বাঙালির মুসলমানের সন্তান—কোনো দিন নোবেল পায় নাই, এর চেয়ে গৌরবের আর কিছু হতে পারে না।’
তবে অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণের পর তাঁর সেই ইতিবাচক ধারণা বদলে যায় বলে জানান তিনি। ফজলুর রহমানের অভিযোগ, জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য দেওয়া হলেও ড. ইউনূস এর প্রতিবাদ করেননি।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যেদিন থেকে আমি এসব দেখতে শুরু করলাম এবং ফাইনালি যখন দেখলাম জামায়াত এবং ছাত্রশিবির বলা শুরু করল—এই দেশে কোনো যুদ্ধ হয়নি, এই দেশে মুক্তিযুদ্ধ বলে কোনো যুদ্ধ হয়নি, এই দেশে হয়েছিল একটা গণ্ডগোল। আর সেই গণ্ডগোলটা লাগিয়ে দিয়েছিল আমাদের মহাশত্রু হিন্দুস্তান—এই কারণে এটা কোনো যুদ্ধ হয়নি।’
এরপর নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তখন আমি বলছি, ওই যে কথাটা বলছিলাম—আলবদর, রাজাকারের বাচ্চারা, মুক্তিযুদ্ধ কিন্তু হইছে। আর ইউনূস সাহেবকে বলছিলাম, আপনি যেহেতু এটার প্রতিবাদ করেননি, আপনি হইলেন এটার প্রধান উৎসাহদাতা বা আপনি হলেন এটার প্রধান কারিগর।’
ড. ইউনূস মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোতে যাননি বলেও অভিযোগ করেন ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আপনি এক দিনও শহীদ মিনারে যান নাই। আপনি এক দিনও স্মৃতিস্তম্ভে যান নাই। আপনার পরিবারে একজন লোকও মুক্তিযুদ্ধে যায় নাই।’
এ সময় ড. ইউনূসের পারিবারিক ব্যবসা এবং তাঁর পরিচালিত গ্রামীণ ব্যবসা নিয়েও সমালোচনা করেন ফজলুর রহমান। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সচিবালয়কেন্দ্রিক দুর্নীতি ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তুলে এ বিষয়ে তদন্ত ও বিচারের দাবি জানান তিনি।
ফজলুর রহমান বলেন, ‘সচিবালয়ে বসে শত শত কোটি টাকার ব্যবসা হইছে—ধরে না কেন আমাদের সরকার, আমি বুঝি না। একবার শুধু বলছে পার্লামেন্টে এটার বিচার হবে। আমি জানি না কথা এবং কাজটা এক হবে কিনা।’
সবশেষে অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামল নিয়ে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য।
তিনি বলেন, ‘ইউনূস সাহেব নেতা ছিলেন। যার আমলে এত কিছু হইতে পারে, সে ইউনূস সাহেব যত কথাই আপনি বলেন—আমি মনে করি, ইয়েস, নোবেল লরিয়েট। উনার প্রতি আমার মুরব্বি হিসেবে শ্রদ্ধা রইল। কিন্তু শাসক হিসেবে উনি দুঃশাসক এবং বাংলাদেশের জন্য সর্বনাশ করে রেখে গেছেন।’



























