পঞ্চগড়ে দুর্গাপূজার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি
শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে পঞ্চগড়ে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমাশিল্পীরা। দিনরাত পরিশ্রম করে দেবী দুর্গাসহ অন্যান্য প্রতিমায় শেষ মুহূর্তের রং-তুলির আঁচড় দিচ্ছেন তাঁরা। পাশাপাশি মণ্ডপ সাজানো, তোরণ নির্মাণ ও আলোকসজ্জার কাজও চলছে দ্রুতগতিতে। অন্যদিকে, উৎসব নির্বিঘ্নে উদ্যাপনে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। প্রশাসন জানিয়েছে, পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা ও নজরদারির বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এবার পঞ্চগড়ের পাঁচ উপজেলায় ৩০১টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছরের তুলনায় এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে তিনটি।
সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির মাটির কাজ শেষ হয়েছে। কোথাও চলছে মাটির প্রলেপ দেওয়ার কাজ, কোথাও আবার চলছে প্রতিমার শেষ পর্যায়ের সাজসজ্জা। রং-তুলির নিপুণ আঁচড়ে দেবী দুর্গার পাশাপাশি গণেশ, কার্তিক, লক্ষ্মী ও সরস্বতীর প্রতিমায় ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে নান্দনিক রূপ। সময় ঘনিয়ে আসায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ব্যস্ত প্রতিমাশিল্পীরা। একই সঙ্গে চলছে মণ্ডপের প্যান্ডেল, প্রবেশদ্বার ও তোরণ নির্মাণের কাজ।
প্রতিমাশিল্পীরা জানান, প্রতিমা তৈরির কাঁচামাল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাঁদের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। সেই তুলনায় পারিশ্রমিক আশানুরূপ না হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ পেশার সঙ্গে যুক্ত শিল্পীদের জন্য সরকারি ভাতা চালুরও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
মণ্ডপসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, নতুন সরকারের আমলে এটিই প্রথম দুর্গাপূজা। তাই উৎসবকে ঘিরে নিরাপত্তার বিষয়ে তাঁরা বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। নির্বিঘ্নে পূজা উদ্যাপন এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন তাঁরা।
এদিকে, পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। পূজা উদ্যাপন কমিটি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে ও স্বাচ্ছন্দ্যে উদ্যাপনের লক্ষ্যে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, সবার সহযোগিতায় জেলায় সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে।



























