রোববার ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৫:৫৪, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

বোদায় পারিবারিক বিরোধে নারীকে শ্লীলতাহানি ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

বোদায় পারিবারিক বিরোধে নারীকে শ্লীলতাহানি ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
ছবিঃ প্রতিনিধি

পঞ্চগড়ের বোদায় পারিবারিক বিরোধের জেরে এক নারীকে মারধর, শ্লীলতাহানি ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তাঁর দেবর ও দেবরের স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোছা. নারগিস আক্তার বোদা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি তদন্ত করছে পুলিশ।

অভিযুক্তরা হলেন নারগিস আক্তারের দেবর মো. মুস্তাফিজুর রহমান মুক্তা ও তাঁর স্ত্রী মোছা. সাহিনা। তাঁরা উপজেলার বেংহাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব ধনিপাড়া এলাকার বাসিন্দা। মুস্তাফিজুর রহমান পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অফিস সহায়ক পদে কর্মরত বলে জানা গেছে।

লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যদের সূত্রে জানা যায়, নারগিস আক্তারের স্বামী মো. জাকির হোসেন জীবিকার প্রয়োজনে রাজশাহীতে থাকেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে দেবর ও দেবরের স্ত্রী বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নারগিসকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, গত ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে নারগিসের বসতবাড়িতে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন অভিযুক্তরা। এর প্রতিবাদ করলে মুস্তাফিজুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। একপর্যায়ে তাঁর পরনের কাপড় টেনে ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি করা হয় এবং গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ সময় নারগিসের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে তাঁকে বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

ভুক্তভোগীর স্বামী মো. জাকির হোসেন মুঠোফোনে বলেন, “আমার স্ত্রী ও সন্তান দীর্ঘদিন ধরে এদের হাতে নিগৃহীত হচ্ছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”

অভিযুক্তদের বাবা মো. খয়রুল আলমও তাঁর ছেলে ও ছেলের স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, “মুস্তাফিজুর আমাকে বাবা হিসেবে গ্রাহ্য করে না। সে ও তার স্ত্রী আমার সামনেই বড় ভাবি এবং ছোট ছেলের স্ত্রী ও সন্তানদের মারধর করে। প্রায় তিন বছর আগে ছোট ছেলের স্ত্রীকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এখন ছোট ছেলের স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে তাঁর বাবার বাড়িতে থাকেন। বাবা হিসেবে আমি অসহায়। সে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরও তোয়াক্কা করে না।”

স্থানীয় প্রতিবেশী মো. আনোয়ারুল ইসলামও মুস্তাফিজুর রহমান ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং নির্যাতনের অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, সরকারি চাকরির প্রভাব দেখিয়ে তাঁরা এসব আচরণ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মো. মুস্তাফিজুর রহমান মুক্তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

বোদা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সোয়েল রানা লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযোগটি তদন্তের জন্য উপপরিদর্শক (এসআই) তৌহিদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পর্কিত বিষয়:

জনপ্রিয়