বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:০৫, ২২ অক্টোবর ২০২৬

রংপুর মেডিক্যালে আগুন, হুড়োহুড়িতে আহত ৪০ রোগী-স্বজন

রংপুর মেডিক্যালে আগুন, হুড়োহুড়িতে আহত ৪০ রোগী-স্বজন
ছবি: সংগৃহীত

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের পর আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে অন্তত ৪০ জন রোগী ও তাদের স্বজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাসপাতালের নিচতলায় বিদ্যুতের কন্ট্রোল রুমের প্রশাসনিক শাখার পাশে একটি সুইচ বোর্ডে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা হাসপাতালটি বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ছিল।

বিকেল ৪টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হাসপাতালের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। এতে রোগীদের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রচণ্ড গরমে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।

রোগী, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আগুন লাগার পরপরই হাসপাতালজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পাঁচতলা থেকে দোতলা পর্যন্ত বিভিন্ন ওয়ার্ডে থাকা রোগী ও তাদের স্বজনেরা দ্রুত নিচে নামার চেষ্টা করেন। এ সময় সিঁড়িতে হুড়োহুড়ি ও পড়ে গিয়ে অন্তত ৪০ জন আহত হন।

হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দোতলার নেফ্রোলজি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন সফিউল আলমকে কোলে করে নামানোর সময় তার দুই ভাতিজা পড়ে গিয়ে আহত হন। এ সময় কিডনি রোগী সফিউলও আহত হন। ওই ওয়ার্ডের অন্তত ১৫ জন রোগী তাড়াহুড়ো করে নিচে নামতে গিয়ে পদদলিত হয়ে আহত হন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনেরা নবজাতকদের নিয়ে তিনতলা থেকে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় কয়েকজন শিশু আহত হয়।

গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন মমতাজ বেগম বলেন, পাঁচ দিন আগে তার শিশুকন্যার জন্ম হয়েছে। আগুন লাগার খবর শুনে শিশুকে নিয়ে দ্রুত নিচে নামতে গিয়ে তিনি আহত হন। জরুরি বহির্গমন সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়েও অনেকে হুড়োহুড়িতে আহত হন।

এদিকে, আগুন লাগার পর হাসপাতালের বিদ্যুৎ সরবরাহে বিপর্যয় দেখা দেয়। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর কয়েকটি ওয়ার্ডে আংশিক বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হলেও নেফ্রোলজি, হৃদরোগ, গাইনি ও কিডনি ডায়ালাইসিসসহ কয়েকটি বিভাগের সেবা ব্যাহত হয়।

বিকেল ৪টা পর্যন্ত হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়, হৃদরোগ বিভাগ, প্যাথলজি, চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগ, কিডনি ডায়ালাইসিস ও নেফ্রোলজি ওয়ার্ডে বিদ্যুৎ ছিল না বলে জানা গেছে। এতে জরুরি অস্ত্রোপচারসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মোহা. আব্দুল মোকাদ্দেম বলেন, ‘শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। সব ওয়ার্ডে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।’

সর্বশেষ

জনপ্রিয়