শুক্রবার ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:৫০, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাজারে সবজিতে স্বস্তি, মাছেই চাপ

বাজারে সবজিতে স্বস্তি, মাছেই চাপ
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর বাজারে কয়েক ধরনের সবজির দাম কিছুটা কমলেও মাছের বাজারে সেই স্বস্তির দেখা মিলছে না। বেশির ভাগ মাছের দাম আগের অবস্থানেই রয়েছে। বরং আকার ও মানভেদে কিছু মাছের দাম বেড়েছে। ফলে সবজির বাজারে সামান্য স্বস্তি পেলেও মাছ কিনতে গিয়ে বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, শনিরআখড়া ও শ্যামবাজারের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

বাজারে দেখা গেছে, প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, উচ্ছে ৬০ টাকা, ঢেঁড়শ ৬০ থেকে ৮০ টাকা, জালি কুমড়া ৭০ টাকা, লাউ ৩০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁকরোল ৬০ থেকে ৭০ টাকা এবং চিচিঙ্গা ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে। কাঁচাকলা বিক্রি হচ্ছে প্রতি হালি ৪০ থেকে ৫০ টাকায়।

এ ছাড়া আলু প্রতি কেজি ২৫ থেকে ৩০ টাকা, পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, রসুন ৮০ থেকে ১৮০ টাকা এবং আদা ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে রসুনের দাম মান ও প্রকারভেদে আলাদা।

সবজির বাজারের তুলনায় মাছের বাজারে চিত্র অনেকটাই ভিন্ন। এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা। মাঝারি আকারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা কেজি দরে।

বাজারে কই মাছের কেজি ৪০০ টাকা, রুই ও কাতল ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ টাকা এবং শিং-টেংরা ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

আকার ও মান অনুযায়ী চিংড়ি মাছ বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি। কার্প জাতীয় মাছের দাম ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, পাঙাশ ১৮০ থেকে ২২০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, শোল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং গজার ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি।

এ ছাড়া আইড় মাছ ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা, রূপচাঁদা ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, দেশি কৈ ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা এবং চিতল ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

যাত্রাবাড়ী বাজারের সবজি বিক্রেতা মোহাম্মদ আলী বলেন, আগের তুলনায় কয়েকটি সবজির দাম কমেছে। বাজারে সরবরাহও ভালো থাকায় কিছু পণ্য তুলনামূলক কম দামে বিক্রি করা যাচ্ছে। তবে সব ধরনের সবজির দাম একসঙ্গে কমেনি।

শনিরআখড়ার মাছ বিক্রেতা সায়েম মিয়ার ভাষ্য, মাছের দাম কমার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। সরবরাহ ও চাহিদার ওপর ভিত্তি করেই মাছের দাম নির্ধারিত হচ্ছে। ইলিশের দাম বেশ চড়া। বড় আকারের মাছের দামও ক্রেতাদের কাছে বেশি মনে হচ্ছে।

শ্যামবাজারে বাজার করতে আসা শামসুন্নাহার বলেন, সবজির দাম কিছুটা কমায় ভালো লাগছে। কিন্তু মাছ কিনতে গেলে সেই স্বস্তি থাকছে না। মাছের পেছনেই অনেক বেশি টাকা চলে যাচ্ছে। সবজি কিনে যে টাকা কিছুটা সাশ্রয় হচ্ছে, মাছ কিনতেই তার চেয়ে বেশি খরচ হয়ে যাচ্ছে।

আরেক ক্রেতা বলেন, বাজারে এসে কয়েকটি সবজির দাম কম শুনে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিলেন। কিন্তু মাছের দোকানে গিয়ে সেই হিসাব পাল্টে যায়। বিশেষ করে ইলিশসহ ভালো মানের মাছের দাম অনেক বেশি।

বিক্রেতাদের মতে, বাজারে সরবরাহ বাড়ায় কিছু সবজির দাম কমেছে। অন্যদিকে মাছের দামের ক্ষেত্রে সরবরাহ ও চাহিদার পাশাপাশি মাছের আকার ও মানও প্রভাব ফেলছে। এসব কারণে মাছের বাজারে এখনো দাম তুলনামূলক বেশি।

ক্রেতারা বলছেন, কয়েকটি সবজির দাম কমলেও পুরো বাজারের ব্যয়ে এর প্রভাব খুব একটা পড়ছে না। মাছসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেশি থাকায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মাসিক বাজার খরচে বাড়তি চাপ থেকেই যাচ্ছে।

জনপ্রিয়