সোমবার ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২

ববি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৩:৪৪, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬

‎বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী হেনস্তাকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের রণক্ষেত্র: দোকান ভাঙচুর

‎বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী হেনস্তাকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের রণক্ষেত্র: দোকান ভাঙচুর
ছবি: প্রতিনিধি

‎বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বাংলা ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে৷ এসময় পাশে থাকা এক নারী দোকানীর দোকান ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বেলা তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন নাম্বার গেটের সামনে এই ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রক্টর উপস্থিত হয়ে উভয় বিভাগের শিক্ষার্থীদেরকে শান্ত করেন এবং তদন্তপূর্বক ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেন।

‎বিভাগ দুটির শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে , গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আনন্দ বাজার রসায়ন বিভাগের ১৪তম ব্যাচের এক নারী শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেছে বলে অভিযোগ উঠে বাংলা বিভাগের ১১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সিফাতের বিরুদ্ধে। পরে অভিযুক্ত সিফাতকে আজ সকাল ১০টার দিকে রসায়ন বিভাগের ৪-৫ জন শিক্ষার্থী হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যদিও হাতুড়ি দিয়ে পেটানোর বিষয়টি অস্বীকার করেছে রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। উক্ত ঘটনা সমাধানের জন্য উভয়  বিভাগের শিক্ষার্থীরা মিলে বিকেল তিনটায় একসাথে বসলে একপর্যায়ে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। 

‎‎অভিযুক্ত বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী সিফাত বলেন, আমার বিরুদ্ধে রসায়ন বিভাগের ১৪ ব্যাচের এক নারী শিক্ষার্থীকে গতকাল রাত আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আনন্দ বাজারে ধাক্কা দেয়ার ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হচ্ছে। কিন্তু এমন কোন ঘটনাই ঘটেনি। এবিষয়ে তাদের কাছে কোন প্রমাণও নেই। কিন্তু আজ সকাল ১০টার দিকে রসায়ন বিভাগের ৪-৫ জন আমাকে ডেকে নিয়ে শহীদ মিনারের পিছনে হাতুড়ি দিয়ে আমার মাথায় ও পিঠে পিটিয়েছে। পরে কয়েকজন এসে আমাকে উদ্ধার করে। পরবর্তীতে সমাধানের জন্য বসলে ওরা আমাদের ওপরে হামলা করেছে। আমি আমার ও বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ওপরে হওয়া হামলার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।"

‎প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, বাংলা ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা নারী হেনস্তার একটি ঘটনা সমাধানের জন্য বসলে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্য কথা-কাটাকাটি শুরু হয় এবং এক পর্যায়ে উভয় বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্য উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ধাক্কাধাক্কি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসময় পাশে থাকা একটি চায়ের দোকান ভেঙে লাঠি সোঠা দিয়ে একে অপরকে আঘাত করেন শিক্ষার্থীরা। এতে দুই বিভাগেরই কিছু শিক্ষার্থী আঘাত পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

‎‎এদিকে সংঘর্ষের সময় পাশে থাকা নাছিমা বেগম নামের এক নারীর দোকানে ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। নাছিমা বেগম বলেন, 'গত বৃহস্পতিবার রাতে আমার দোকানে চুরি হয়েছে। এর মধ্যে আজকে আমার দোকানটায় ভাংচুর করা হলো। আমি অসহায় মানুষ আমার দোকানটা যেন ঠিক করে দেয় সেই দাবি করছি সবার কাছে'

‎‎বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ বলেন,   রসায়ন বিভাগের ১৪ব্যাচের এক নারী শিক্ষার্থীকে হয়রানির অভিযোগ তুলে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী সিফাতকে মারধর করেছে রসায়ন বিভাগের কতিপয় শিক্ষার্থী।  ঐ বিষয়টি সমাধানের জন্য  বেলা তিনটার দিকে রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাথে আমরা বসি। এরমধ্যে রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা আমাদের  কে মারধর করার হুমকি-ধামকি দেয় ও আমাদের ওপরে অতর্কিত হামলা করে। এসময় দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্য সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।  দোকান ভাংচুরের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে বলেন, রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা দোকান ভাংচুর করে লাঠি দিয়ে আমাদের ওপরে হামলা করেছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমরা বিচার চেয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

‎‎রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিব আহমেদ বলেন, গতকাল রাত সাড়ে আটটার দিকে আমাদের বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে হেনস্তার চেষ্টা  করে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী সিফাত। আমরা বিষয়টিকে নিয়ে সমাধানের জন্য বসেছিলাম আজ। সমাধানের একপর্যায়ে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এসময় দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আমরা নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তা ও আজকের ঘটনার বিচারের দাবি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। 

‎‎বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে এসে দেখি উভয় বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাদানুবাদ চলছে। এর আগে সংঘর্ষ হয়েছে কিনা সেটা দেখিনি, আমরা উভয়ের কথা শুনেছি, ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত করে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নিবো। আর এক নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তার যে অভিযোগ এসেছে সেটাও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।" 

‎‎এবিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। গুরুতর কেউ আহত হয়নি।  এবিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিচার করা হবে।

সর্বশেষ