বুধবার ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫:৩৬, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

চঞ্চল-পরীমনির ‘শাস্তি’

চঞ্চল-পরীমনির ‘শাস্তি’
ছবি: সংগৃহীত

বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী এক গল্প নতুন রূপে ফিরছে বড়পর্দায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বহুল আলোচিত ছোটগল্প ‘শাস্তি’ অবলম্বনে নির্মিত হতে যাচ্ছে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, যেখানে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে অভিনয় করবেন দেশের জনপ্রিয় দুই তারকা চঞ্চল চৌধুরী ও পরীমনি। সিনেমাটির পরিচালনায় রয়েছেন লীসা গাজী। জানা গেছে, আগামী সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে ছবিটির ঘোষণা দেওয়া হবে।

পরিচালক লীসা গাজী জানিয়েছেন, এটি মূল গল্পের হুবহু পুনর্নির্মাণ নয়। রবীন্দ্রনাথের ভাবনা ও আবহ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে গল্পটিকে নতুন ভাষা ও দৃষ্টিভঙ্গিতে তুলে ধরাই এই চলচ্চিত্রের মূল উদ্দেশ্য।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শাস্তি’ বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শক্তিশালী ও মানবিক ছোটগল্প হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পাঠক-সমালোচকদের মনে গভীর ছাপ রেখে এসেছে। গ্রামীণ সমাজব্যবস্থা, পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েন, পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা এবং নারীর নীরব আত্মত্যাগ—এই বিষয়গুলো গল্পটির মূল সুর হয়ে উঠেছে।

গল্পের কাহিনি এগিয়ে যায় দুই ভাই—চিদাম ও দুখিরামের পারিবারিক জীবনের ভেতর দিয়ে। সামান্য এক বিরোধের জেরে হঠাৎ ক্ষোভের বশে চিদাম দুখিরামের স্ত্রীকে হত্যা করে ফেলে। পরে নিজেকে রক্ষা করতে গিয়ে সে নির্মমভাবে নিজের স্ত্রী চন্দরা’র ওপর সেই হত্যার দায় চাপিয়ে দেয়।

সম্পূর্ণ নির্দোষ হয়েও স্বামী ও সমাজের চাপের কাছে নতিস্বীকার করে চন্দরা হত্যার দায় স্বীকার করে নেয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সত্য বলার সুযোগ পেলেও সে নীরবই থেকে যায়। এই নীরবতাই হয়ে ওঠে গল্পের সবচেয়ে তীব্র প্রতিবাদ—যেখানে আত্মসম্মান, বিশ্বাসভঙ্গ এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে চন্দরা তার শেষ ও চূড়ান্ত অবস্থান জানিয়ে দেয়।

ছবিটি নির্মাণে একাধিক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে, যা প্রকল্পটির ব্যাপ্তি ও গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে।

উল্লেখ্য, ‘শাস্তি’ কেবল একটি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা গল্প নয়; এটি নারীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া অন্যায়, নৈতিক ভাঙন এবং সমাজের নির্মম বাস্তবতার এক গভীর ও শক্তিশালী প্রতিচ্ছবি। নতুন এই চলচ্চিত্রে সেই চিরন্তন সত্যগুলো কীভাবে নতুন আঙ্গিকে উঠে আসে, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।