শুক্রবার ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৫১, ২৮ আগস্ট ২০২৬

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃত ৪৬৯, নিখোঁজ শত শত

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃত ৪৬৯, নিখোঁজ শত শত
ছবি: সংগৃহীত

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের সন্ধানে নদীর ভাটির এলাকা ও বিভিন্ন নদীপথে তল্লাশি অভিযান আরও বিস্তৃত করেছে উদ্ধারকারী দল।

বুধবার সকালে উত্তর নেপালের রাসুয়া ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে আকস্মিক বন্যা আঘাত হানে। এতে ভটেকোশি ও ত্রিশূলী নদীতে ব্যাপক স্রোত ও ধ্বংসাবশেষ নেমে আসে। মুহূর্তের মধ্যে প্লাবিত হয় বিস্তীর্ণ এলাকা। ভেসে যায় ঘরবাড়ি, সেতু, সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বেশ কিছু জনপদ। দেশের অন্যান্য অংশের সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়ে ফেলেন অনেক মানুষ ও পর্যটক।

কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া হতাহত ও নিখোঁজের তথ্য যাচাই করছে। ফলে দুর্যোগে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নিখোঁজ ৬৬৭ পর্যটক ও ভ্রমণকারী

নিখোঁজদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক পর্যটক ও ট্রেকার রয়েছেন। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড বৃহস্পতিবার রাতে জানিয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে মোট ৬৬৭ জন পর্যটক ও ভ্রমণকারী এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১২৭ জন নেপালি নাগরিক।

বন্যার সময় রাসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিঙে অবস্থানকারী কিংবা ওইসব এলাকার মধ্য দিয়ে যাতায়াতকারী পর্যটক ও ভ্রমণকারীদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে ৩১ জন বিদেশিকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পর্যটন বোর্ড। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে একজন ভারতীয়, চারজন দক্ষিণ কোরীয়, দুজন মার্কিন, দুজন রুশ, দুজন ইতালীয়, একজন বুলগেরীয় ও একজন সুইস নাগরিক রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া আরও ১৮ জনের জাতীয়তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।

নদীর ভাটিতে তল্লাশি

নিখোঁজ পর্যটক ও ভ্রমণকারীদের সন্ধানে নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড, সংস্কৃতি, পর্যটন ও বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়, পর্যটন পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে। ট্রাভেল এজেন্সি, ট্রেকিং কোম্পানি, স্থানীয় গাইড, প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা হচ্ছে।

অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে নেপালি সেনাবাহিনী, নেপাল পুলিশ এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন এলাকায় পৌঁছাতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থলভিত্তিক উদ্ধারকারী দল নদীর তীর, ভাটির এলাকা এবং বিভিন্ন জনবসতিতে তল্লাশি চালাচ্ছে।

যোগাযোগব্যবস্থা বিপর্যস্ত

বন্যার পানিতে সড়ক, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকারী দল ও ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক এলাকায় এখনও স্বাভাবিক যোগাযোগব্যবস্থা পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে এত ভয়াবহ বন্যার আকস্মিক কারণ এখনও তদন্তাধীন। হিমালয়ের পাদদেশে প্রায় কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই বন্যা আঘাত হানে। অল্প সময়ের মধ্যেই প্রবল স্রোত ভটেকোশি ও ত্রিশূলী নদী ব্যবস্থার দিকে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দা ও পর্যটকদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সুযোগ খুবই কম ছিল।

সূত্র: দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট

সম্পর্কিত বিষয়:

জনপ্রিয়