শুক্রবার ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:৩৪, ২৮ আগস্ট ২০২৬

এই সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত: স্পিকার

এই সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত: স্পিকার
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে একে অপরকে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি ও হট্টগোলের ঘটনায় সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। তিনি বলেছেন, সংসদে কথা বলার স্বাধীনতা যেমন রয়েছে, তেমনি সংসদের নিয়ম-কানুন মেনে চলাও প্রত্যেক সংসদ সদস্যের দায়িত্ব।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার সময় এসব কথা বলেন স্পিকার।

স্পিকার বলেন, ‘আমি এই সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। আজকে একে অপরকে কথা বলার সুযোগকে যেভাবে বাধা দেওয়ার প্রচেষ্টা দেখেছি, এটা সংসদের জন্য ভালো লক্ষণ নয়।’

তিনি বলেন, অনেক ত্যাগ ও কষ্টের বিনিময়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেই গণতন্ত্র সমুন্নত রাখার দায়িত্ব প্রত্যেক সংসদ সদস্যের। সংসদ সদস্যদের নিয়মিত ‘রুলস অব প্রসিডিউর’ পড়ার আহ্বান জানিয়ে স্পিকার বলেন, তিনি যখন কথা বলেন তখন সংসদ সদস্যদের বসে তা শুনতে হয়।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ সতর্ক করে বলেন, সংসদের আইন ও নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ না করলে এই সংসদ বেশিদিন কার্যকরভাবে চলতে পারবে না।

এর আগে কুমিল্লা-৪ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর একটি প্রশ্ন নিয়ে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। প্রশ্নটি বুঝতে না পেরে তিনি স্পিকারকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘স্পিকার, এটা প্রশ্ন হলো, না পল্টনের বক্তৃতা হলো বুঝতে পারিনি।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদে উত্তেজনা ও হট্টগোল শুরু হয়। একপর্যায়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘যদি কথাই না বলতে দেন, তাহলে কীসের বাকস্বাধীনতা।’

তার এই বক্তব্যের পর বিরোধীদলীয় সদস্যরা আপত্তি জানান এবং বক্তব্যের ওই অংশ সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার (এক্সপাঞ্জ) দাবি তোলেন।

পরে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তার বক্তব্যের সময় এ ধরনের মন্তব্য করা হলে সংসদে বক্তব্য দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, নতুন করে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের প্রবণতা শুরু হয়েছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘উনি নিজেকে কী মনে করেন। তিনি শুরু থেকেই সংসদে দুঃশাসন দেখিয়েছেন। তিনি শুরু থেকেই তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে বক্তব্য দেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তার ছাত্র হিসেবে এখানে নেই। উনি শিক্ষক হলে তিনি ইউনিভার্সিটি খুলুন, সেখানে উনি বক্তব্য দিতে পারবেন। এটা ফ্যাসিবাদের সংস্কৃতি।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের জন্য তাকে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে বলেও দাবি করেন বিরোধীদলীয় নেতা।

পরে পরিস্থিতি শান্ত করতে স্পিকার সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, সংসদে প্রত্যেকের কথা বলার স্বাধীনতা রয়েছে। তবে বক্তব্য দেওয়ার সময় অন্য সদস্যদের তা বাধাগ্রস্ত করা উচিত নয়।

তিনি বলেন, ‘আমি দেখলাম বিরোধীদলীয় নেতা যখন দাঁড়ালেন, উনার পেছনে সবাই দাঁড়িয়ে গেল। কাউকে বসানোই যায় না। সংসদ কথা বলার জায়গা। কথার মাধ্যমে একে অপরের যুক্তিকে খণ্ডন করা যাবে।’

বিরোধীদলের পক্ষ থেকে উত্থাপিত প্রস্তাবটি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়ে স্পিকার বলেন, তিনি সংসদ সদস্যদের কথা বলার স্বাধীনতার পক্ষে। তবে শব্দ ও হট্টগোলের মাধ্যমে কারও বক্তব্য থামিয়ে দেওয়া যাবে না।

তিনি বলেন, ‘আপনারা কথা বলার স্বাধীনতা হরণ করবেন না। শব্দ করে বিচারের বাণীকে স্তব্ধ করা যাবে না। আমাকে সংসদ পরিচালনা করতে দিন।’

নিজের দীর্ঘ সংসদীয় অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে স্পিকার বলেন, তিনি তার জ্ঞান ও বুদ্ধি দিয়ে সংসদ পরিচালনার চেষ্টা করছেন। গত ৪০ বছর ধরে তিনি জাতীয় সংসদের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বলেও জানান।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, অতীতেও সংসদে অনেক খারাপ রেকর্ড রয়েছে। তবে অতীতের তুলনায় বর্তমানে ভালো সংসদ পাওয়া গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শেষে সংসদের উভয় পক্ষের সদস্যদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে স্পিকার বলেন, পারস্পরিক সহনশীলতা ও সংসদীয় নিয়ম মেনে চলার মাধ্যমেই সংসদের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব।

জনপ্রিয়