কলম্বিয়ায় বোমা হামলায় শিশুসহ নিহত ৪, আহত ১৭
কলম্বিয়ায় সামরিক ঘাঁটির কাছে বিস্ফোরকভর্তি একটি ট্রাকের বোমা বিস্ফোরণে দুই মাস বয়সী এক শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৭ জন। রোববার রাতে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় তলিমা বিভাগের প্লানাদাস শহরে এ ঘটনা ঘটে।
সোমবার দেশটির কর্তৃপক্ষ হতাহতের এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
কর্তৃপক্ষের ধারণা, বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সদস্যরা এ হামলা চালিয়েছে। দেশটির নতুন ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এস্প্রিয়েলা মাদক চোরাচালানে জড়িত বামপন্থী বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করার পর থেকে সহিংসতা বেড়েছে। এর জবাবে বিদ্রোহীরাও পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। গত এক সপ্তাহে তারা চারটি হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে গত সপ্তাহে একটি হামলায় এক পুলিশ সদস্য নিহত হন।
সর্বশেষ বিস্ফোরণে একটি হাসপাতাল ও আশপাশের বেশ কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় সড়কজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ধ্বংসাবশেষ। এতে অন্তত ১৭ জন আহত হন।
ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা গেছে, বিস্ফোরণের পর এক নারী চিৎকার করছেন। এ সময় এক ব্যক্তিকে ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে একটি শিশুর নিথর দেহ বের করে আনতে দেখা যায়।
তলিমা বিভাগের গভর্নর আদ্রিয়ানা মাগালি মাতিজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘গভীর শোকের সঙ্গে জানাচ্ছি, প্লানাদাসে হামলায় প্রাথমিকভাবে চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে মাত্র দুই মাস বয়সী একটি কন্যাশিশুও রয়েছে।’
কলম্বিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ হামলার জন্য একসময় প্রভাবশালী সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন ফার্কের বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া একটি অংশকে দায়ী করেছে। কয়েক দশকের সংঘাতের অবসান ঘটাতে ২০১৬ সালে তৎকালীন সরকারের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করেছিল ফার্ক।
প্লানাদাসের মেয়র হুয়ান কামিলো হুয়েহে জানান, হামলার আগে শহরের আকাশে কয়েকটি ড্রোন উড়তে দেখা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে মাদক চোরাচালানে জড়িত বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো সরকারের বিরুদ্ধে সংঘাতে ড্রোনের ব্যবহার বাড়িয়েছে। এসব ড্রোন কখনো নজরদারির কাজে, আবার কখনো সরাসরি হামলা চালাতে ব্যবহার করা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট দে লা এস্প্রিয়েলা প্লানাদাসসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন হামলার জন্য ‘মাদক সন্ত্রাসীদের’ দায়ী করেছেন। একই সঙ্গে বিদ্রোহীদের পরাস্ত করার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা তোমাদের পরাস্ত করব!’
গভর্নর মাতিজ এ হামলাকে ‘জঘন্য ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
২০১৬ সালে কলম্বিয়ার সরকার ও ফার্কের মধ্যে ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি হলেও বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সব অংশ এতে যুক্ত হয়নি। চুক্তির বাইরে থাকা বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী এরপর থেকে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে হামলা চালিয়ে আসছে। প্লানাদাসের সর্বশেষ বিস্ফোরণও সেই দীর্ঘদিনের সহিংসতার ধারাবাহিকতা।
যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট প্রেসিডেন্ট দে লা এস্প্রিয়েলা গত আগস্টে ক্ষমতা গ্রহণের পর বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সব ধরনের শান্তি আলোচনা বন্ধ করে দেন। এরপর বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলার নির্দেশ দেন তিনি। এর পাল্টা জবাবে বিদ্রোহীরা বোমা ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
এর আগে গত শনিবার তলিমা বিভাগের পার্শ্ববর্তী হুইলা বিভাগের আলগেসিরাস শহরে হ্যালোইন উৎসব চলাকালে বিস্ফোরকভর্তি একটি মোটরসাইকেল বিস্ফোরিত হয়। এতে এক পুলিশ সদস্য নিহত হন।
এদিকে ওই অঞ্চলে ধারাবাহিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে গত শুক্রবার ভেনেজুয়েলা সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ শহর কুকুতায় সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দেন প্রেসিডেন্ট দে লা এস্প্রিয়েলা।
সূত্র: আনাদোলু



























