শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:০৮, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তরুণদের স্মৃতি ও মনোযোগে প্রভাব ফেলছে ব্রেইন বার্নআউট

তরুণদের স্মৃতি ও মনোযোগে প্রভাব ফেলছে ব্রেইন বার্নআউট
ছবিঃ এআই

একসময় স্মৃতিভ্রংশ, মনোযোগের ঘাটতি কিংবা মানসিক ক্লান্তিকে বয়সজনিত স্বাভাবিক সমস্যা হিসেবে দেখা হলেও বর্তমানে তরুণদের মধ্যেও এ ধরনের উপসর্গ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, অনিয়মিত ঘুম এবং ব্যস্ত জীবনযাত্রার কারণে মস্তিষ্কের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

বর্তমানে অনেক তরুণ-তরুণী অভিযোগ করছেন যে, পর্যাপ্ত ঘুমের পরও তারা মানসিকভাবে সতেজ বোধ করছেন না। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মনে রাখতে সমস্যা হচ্ছে, কাজের প্রতি মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণেও সময় লাগছে। দীর্ঘদিন এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে ‘ব্রেইন ফগ’ বা মানসিক অস্পষ্টতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই-মেইল ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রতিনিয়ত বিপুল তথ্য মস্তিষ্কে প্রবেশ করছে। একই সঙ্গে একাধিক কাজ করার প্রবণতাও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে মনোযোগের স্থায়িত্ব কমে যায় এবং তথ্য মনে রাখতে অসুবিধা হয়।

দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপও এ সমস্যার অন্যতম কারণ। অতিরিক্ত স্ট্রেসের কারণে শরীরে কর্টিসলসহ বিভিন্ন হরমোনের ভারসাম্যে পরিবর্তন আসে, যা স্মৃতিশক্তি, শেখার ক্ষমতা এবং মনোযোগকে প্রভাবিত করতে পারে। এর ফলে একই বিষয় বারবার পড়েও মনে না থাকা, কাজে অমনোযোগিতা কিংবা মানসিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

এছাড়া পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করে। ঘুমের সময় মস্তিষ্ক দিনের তথ্য সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণের কাজ সম্পন্ন করে। তাই নিয়মিত ঘুমের ঘাটতি হলে স্মৃতি ও মনোযোগ উভয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, সুষম খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম মানসিক কর্মক্ষমতা ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলমূল, শাকসবজি, প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।

তারা আরও পরামর্শ দেন, একসঙ্গে অনেক কাজ না করে একটি কাজ শেষ করে অন্য কাজে মনোযোগ দেওয়া উচিত। দীর্ঘ সময় মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহারের ক্ষেত্রে মাঝেমধ্যে বিরতি নেওয়া এবং কর্মঘণ্টার বাইরে কাজের চাপ সীমিত রাখাও উপকারী হতে পারে। মেডিটেশন, মাইন্ডফুলনেস ও শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক।

তবে স্মৃতিশক্তি বা মনোযোগের সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে তা অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ এসব সমস্যার পেছনে ঘুমের ব্যাধি, উদ্বেগ, বিষণ্নতা, পুষ্টির ঘাটতি কিংবা অন্যান্য শারীরিক কারণও থাকতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মস্তিষ্কের সুস্থতা বজায় রাখতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং প্রযুক্তি ব্যবহারে সংযমী হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
 

জনপ্রিয়