স্কুল চলাকালে কোচিং নয়, প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট -ত্রাণমন্ত্রী
বিদ্যালয়ের পাঠদান চলাকালে কোনো কোচিং সেন্টার পরিচালনা করা যাবে না বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেন, এ নির্দেশনা অমান্য করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজন হলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে কোচিং কার্যক্রম বন্ধ করা হবে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা শহরের চার্চ অব গড মিশন ক্যাম্পাসে শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ে সদর উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের পাঠদানের ওপর নির্ভর না করে কোচিং সেন্টারকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে। অথচ বিদ্যালয়ে সামান্য বেতন দিতে অনীহা থাকলেও কোচিংয়ের জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। কোচিং করলেই ভালো ফলাফল অর্জন করা সম্ভব—এ ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
তিনি জানান, প্রথমে কোচিং সেন্টারগুলোকে সতর্কবার্তা দেওয়া হবে। এরপরও পাঠদানের সময় কোচিং কার্যক্রম চলতে থাকলে প্রশাসনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিটি বিদ্যালয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। পাশাপাশি শিক্ষা সফর, খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রম বাড়ানোরও আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যুগোপযোগী শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে, যাতে তারা বিদ্যালয় থেকেই প্রয়োজনীয় জ্ঞান লাভ করতে পারে এবং কোচিংয়ের ওপর নির্ভরশীলতা কমে।
বিদ্যালয়ে পাঠদান অবহেলা করে কোচিং সেন্টারে শিক্ষকতা করার অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়া শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আগেভাগেই অবহিত করতে হবে এবং প্রয়োজনে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কোনো শিক্ষার্থী নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে অভিভাবকের সুপারিশ বা তদবিরের ভিত্তিতে তাকে পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে না।
সভায় জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাসেল মিয়া, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীতা দাস, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুখসানা পারভীন, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ বি এম ফারুক সিদ্দিকসহ শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।



























