শনিবার ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪:১৯, ২৯ আগস্ট ২০২৬

অবৈধ অস্ত্রের তথ্যে ২ লাখ টাকা পুরস্কার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অবৈধ অস্ত্রের তথ্যে ২ লাখ টাকা পুরস্কার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবিঃ সংগৃহীত

অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষায়িত ইউনিট গঠন করেছে সরকার। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে ইউনিটটি ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম শুরু করেছে। একই সঙ্গে ভারী অস্ত্র উদ্ধারে সহায়তাকারী তথ্যদাতাদের সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠিত ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কারের পরিমাণ অস্ত্রের ধরন অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়েছে। ভারী অস্ত্র (হেভি ওয়েপন) উদ্ধারে সহায়ক তথ্য প্রদান করলে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা, পিস্তল, রিভলভার ও শটগানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। এছাড়া সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারগ্যাস সেল ও অন্যান্য লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিলে ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে।

তথ্যদাতাদের নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, তথ্য সরবরাহকারীদের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করতে পারেন।

সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কৌশল, পুলিশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয় এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। এতে পুলিশ সুপার, ডিআইজি, পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত আইজিপি ও আইজিপিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি মাদক, চোরাচালান, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধেও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। এসব অভিযানে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্য সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাদক নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ কর্মকর্তাদের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাতিল হওয়া অস্ত্রের লাইসেন্স প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেসব অস্ত্র জমা দেওয়া হয়নি, সেগুলো বর্তমানে অবৈধ অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র পাচারের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অন্য দেশের ভূখণ্ডে গিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ অভিযান পরিচালনা করতে পারে না। তবে দেশের অভ্যন্তরে থাকা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চলমান থাকবে।

তিনি জানান, অস্ত্র, মাদক, চোরাচালান, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি দমনে নতুন কিছু কৌশল প্রণয়ন করা হয়েছে, যা শিগগিরই মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে এসব কৌশল এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না।

জনপ্রিয়