চার মাসেই ধসে পড়ল ৬ কোটি টাকার সেতুর সংযোগ সড়ক
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ঝলইশালশিরি ইউনিয়নের ধরধরা এলাকায় টাঙ্গন নদীর ওপর প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুর সংযোগ সড়ক চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার মাত্র চার মাসের মধ্যেই ধসে পড়েছে। সেতুর দুই পাশে হেরিংবন সড়কসহ মাটি ধসে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও দায়সারাভাবে কাজ করায় সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটির এমন বেহাল দশা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় চার বছর ধরে চলা সেতু নির্মাণকাজ তিন দফা সংশোধনের পর সম্প্রতি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। কিন্তু মাত্র চার মাসের মাথায় সেতুর উভয় পাশের সংযোগ সড়কের প্রায় ২০০ মিটার অংশে হেরিংবনসহ মাটি ধসে পড়েছে। এতে সেতুটি ব্যবহার করতে গিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি সেতুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে সেখানে গিয়েছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদ। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা নির্মাণকাজ নিয়ে একের পর এক অভিযোগ তুলে ধরেন। অভিযোগ শুনে এবং সেতু ও সংযোগ সড়কের কাজের অবস্থা দেখে তিনি উদ্বোধন না করেই ফিরে যান। একই সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পঞ্চগড় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেন বলে স্থানীয়রা জানান।
এর পরপরই কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সেতুর উভয় পাশের সংযোগ সড়কের হেরিংবনসহ মাটি ধসে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এস কর্পোরেশন সেতুর পাশের টাঙ্গন নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে ব্যবহার করেছে। এ ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানাও করা হয়েছে বলে জানান তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা অমল চন্দ্র রায় বলেন, “সেতুটি খুলে দেওয়ার পরপরই রাস্তার ইট ও মাটি ধসে যাচ্ছে। এখন ভয় হচ্ছে, কোনো দিন না সেতুটিও ধসে যায়।”
শিক্ষক মফিজুর রহমান বলেন, “চার বছরের বেশি সময় ধরে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলা কাজটি মাত্র চার মাস আগে চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই যেভাবে রাস্তা ধসে পড়েছে, তাতে নির্মাণকাজের মান ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।”
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এস কর্পোরেশনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বোদা উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী আকরাম হোসেন বলেন, “সেতুর দুই পাশের প্রায় ২০০ মিটার হেরিংবন সড়ক বৃষ্টিতে ভেঙে পড়েছে। ইতোমধ্যে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করতে সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এত অল্প সময়ের ব্যবধানে রাস্তাটি এভাবে ধসে পড়বে, তা আমরাও ভাবিনি। কাজের মান নিয়ে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
পঞ্চগড় এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সফিউল আলম বলেন, “বিষয়টি জানার পরপরই সেখানে যান চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এখনো চূড়ান্ত বিল দেওয়া হয়নি। তদন্তে ঠিকাদারের গাফিলতি বা কাজের নিম্নমানের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতুর সংযোগ সড়ক চালুর মাত্র চার মাসের মধ্যে ধসে পড়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নির্মাণকাজের মান, তদারকি ও সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।



























